১২ নির্দেশনা মানলেই সেন্টমার্টিনে প্রবেশের অনুমতি
- প্রকাশের সময় : ০৬:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 93
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার ভ্রমণ হবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায়। সরকার নতুনভাবে জারি করেছে ১২ দফা নির্দেশনা, যা মানলেই পর্যটকরা দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত)–এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রণীত ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা’-এর আলোকে এই ১২ নির্দেশনা কার্যকর করা হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিনগামী কোনো নৌযানের অনুমতি দিতে পারবে না।
পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে, যেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া কোনো টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে; রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন অনুমোদিত থাকবে, তবে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সর্বাধিক দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন।
দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দ্বীপে পলিথিন বহন করা যাবে না। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক—যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল—বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে, পাশাপাশি দ্বীপটি হবে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।




















