Dhaka ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মহেশপুরে পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু পাঁচ ভাষায় মুক্তি পাবে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১০৮৮ ভরি রুপা চালুর এক দিন পরই ফের বন্ধ ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ৫১ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ৫ সহস্রাধিক যাত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড ও বিনামূল্যে শিক্ষার মতো উদ্যোগ নারীদের সম্ভাবনা ও সুযোগ বাড়াচ্ছে’ ‘সংস্কারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে নীতিগত ঐকমত্য, বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার’ দুর্গাপূজায় ৫ দিন ব্যাংক বন্ধ

কুমারী মেয়ের নীরবতাই বিয়ের সম্মতি, আফগানিস্তানে নতুন আইন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:০০:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 110

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশে নতুন একটি পারিবারিক আইন বিধিমালা জারি করেছে। এই বিধিমালায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম তালেবানের নিজস্ব ইসলামি ব্যাখ্যার আলোকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতি’ শিরোনামের ৩১ অনুচ্ছেদের এই ডিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নথিতে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বিয়ে বাতিলের প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটিতে বলা হয়েছে, কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে ছেলে বা বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিয়েতে বাবা ও দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আত্মীয়দের মাধ্যমে ঠিক করা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে তখনই বৈধ হবে, যদি বর সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে।

নতুন বিধিমালায় ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘বয়ঃসন্ধির পর পছন্দ’ নামে একটি আইনি নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বয়ঃসন্ধির আগে হওয়া কোনো বিয়ে, সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর তার অনুরোধে বাতিল করার সুযোগ থাকবে। তবে এজন্য ধর্মীয় আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হবে।

ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, সঙ্গী অনুপযুক্ত হলে বা মোহরানায় চরম ভারসাম্যহীনতা থাকলে সেই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হবে না।

এছাড়া তালেবান বিচারকদের ব্যভিচারের অভিযোগ, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও ‘জিহার’-সংক্রান্ত বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারকরা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারবেন।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যেই নতুন এই পারিবারিক আইন জারি করা হলো।
সূত্র: এনডিটিভি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কুমারী মেয়ের নীরবতাই বিয়ের সম্মতি, আফগানিস্তানে নতুন আইন

প্রকাশের সময় : ১১:০০:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশে নতুন একটি পারিবারিক আইন বিধিমালা জারি করেছে। এই বিধিমালায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম তালেবানের নিজস্ব ইসলামি ব্যাখ্যার আলোকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতি’ শিরোনামের ৩১ অনুচ্ছেদের এই ডিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নথিতে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বিয়ে বাতিলের প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটিতে বলা হয়েছে, কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে ছেলে বা বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিয়েতে বাবা ও দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আত্মীয়দের মাধ্যমে ঠিক করা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে তখনই বৈধ হবে, যদি বর সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে।

নতুন বিধিমালায় ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘বয়ঃসন্ধির পর পছন্দ’ নামে একটি আইনি নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বয়ঃসন্ধির আগে হওয়া কোনো বিয়ে, সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর তার অনুরোধে বাতিল করার সুযোগ থাকবে। তবে এজন্য ধর্মীয় আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হবে।

ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, সঙ্গী অনুপযুক্ত হলে বা মোহরানায় চরম ভারসাম্যহীনতা থাকলে সেই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হবে না।

এছাড়া তালেবান বিচারকদের ব্যভিচারের অভিযোগ, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও ‘জিহার’-সংক্রান্ত বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারকরা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারবেন।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যেই নতুন এই পারিবারিক আইন জারি করা হলো।
সূত্র: এনডিটিভি।