Dhaka ১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ঢাকার ডিসি এসপি দুজনই প্রথম নারী দর্শক ভোগান্তি কমাতে মিরপুরে বসবে বিশেষ শেড, আসছে সোলার প্যানেলও সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ মহেশপুরে সিরামিকস কারখানার বর্জ্যে বিপন্ন কৃষি রক্ষায় মানববন্ধন দেশে-বিদেশে বসে কুৎসা রটনাকারীদের নিয়ন্ত্রণে আইন মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় ভারতীয় দূতকে তলব অনেক দলের তো ব্যাংকও আছে, তাই ঋণখেলাপি হওয়ার সুযোগ নাই: অর্থমন্ত্রী নওগাঁয় স্বামীর প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন, বিচার দাবি ৭২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় কেনা হচ্ছে ৯ হাজার টন মসুর ডাল

পাতার বাঁশি বাজিয়ে আর মানুষকে আনন্দ দেবেন না ভাল্টু দা

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • / 381

জনতার আদালত অনলাইন ॥ আসল নাম অধীর কর্মকার হলেও সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ভাল্টু দা নামে। পাতার বাঁশি বাজিয়ে আর হাসিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়াই ছিল তার কাজ। তার দিন কাটতো বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের বারান্দায়। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মৌকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভাল্টু দা বুধবার রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন  চার ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে শেষ নজর দেখতে স্থানীয় বিভিন্ন অফিসের সরকারি কর্মকর্তা,  ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান, মেম্বার, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ  নানা শ্রেণি পেশার মানুষ তার বাড়িতে  ভিড় করেন। বালিয়াকান্দি মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্যে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোটবেলায়  মানুষের বাড়ির  রাখালের কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে  কাঠুরিয়ার কাজ করতেন। কিন্তু  প্রতিবন্ধকতার  কারণে তা বেশি দিন করতে পারেননি। পরে ঠাই নেন বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের বারান্দায়। সেখানে পাতার বাঁশি বাজিয়ে, গান শুনিয়ে ও রম্য কথা বলে মানুষকে আনন্দ দিতেন। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ভাল্টুদা। বিভিন্ন অফিসের খায় ফরমাশ খেটে যা টাকা পেতেন তাই দিয়ে চলতো সংসার। তার কোনো চাহিদা ছিলনা। নিজেকে তিনি সুখী মানুষ বলেই মনে করতেন।

 বালিয়াকান্দি শহরের প্রতিটি মানুষ তাকে চিনতো। সবার প্রিয় পাত্র ছিলেন ভাল্টুদা। কোনো মানুষকে বিষণœ দেখলেই এমন কিছু বলতেন যা  শুনে সকলেই হেসে গড়াগড়ি যেত। কোনো দিন তার মন খারাপ  দেখা যায়নি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পাতার বাঁশি বাজিয়ে আর মানুষকে আনন্দ দেবেন না ভাল্টু দা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ আসল নাম অধীর কর্মকার হলেও সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ভাল্টু দা নামে। পাতার বাঁশি বাজিয়ে আর হাসিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়াই ছিল তার কাজ। তার দিন কাটতো বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের বারান্দায়। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মৌকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভাল্টু দা বুধবার রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন  চার ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে শেষ নজর দেখতে স্থানীয় বিভিন্ন অফিসের সরকারি কর্মকর্তা,  ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান, মেম্বার, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ  নানা শ্রেণি পেশার মানুষ তার বাড়িতে  ভিড় করেন। বালিয়াকান্দি মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্যে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোটবেলায়  মানুষের বাড়ির  রাখালের কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে  কাঠুরিয়ার কাজ করতেন। কিন্তু  প্রতিবন্ধকতার  কারণে তা বেশি দিন করতে পারেননি। পরে ঠাই নেন বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের বারান্দায়। সেখানে পাতার বাঁশি বাজিয়ে, গান শুনিয়ে ও রম্য কথা বলে মানুষকে আনন্দ দিতেন। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ভাল্টুদা। বিভিন্ন অফিসের খায় ফরমাশ খেটে যা টাকা পেতেন তাই দিয়ে চলতো সংসার। তার কোনো চাহিদা ছিলনা। নিজেকে তিনি সুখী মানুষ বলেই মনে করতেন।

 বালিয়াকান্দি শহরের প্রতিটি মানুষ তাকে চিনতো। সবার প্রিয় পাত্র ছিলেন ভাল্টুদা। কোনো মানুষকে বিষণœ দেখলেই এমন কিছু বলতেন যা  শুনে সকলেই হেসে গড়াগড়ি যেত। কোনো দিন তার মন খারাপ  দেখা যায়নি।