Dhaka ০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শেখ মুজিবের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ পোরশায় ৫০০ ট্যাপেন্টাডলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, ইরানের কড়া জবাব শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকী : ধানমন্ডি ৩২ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ১৫ আগস্ট ঘিরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে নিরাপত্তা জোরদার বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনো ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না: শামা ওবায়েদ ‘আব্বু, সিএনজি ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে’—২৬ সেকেন্ডের আকুতির পর শিশুকন্যাসহ মা নিখোঁজ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 72

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গণনা শেষে পাওয়া গেছে এ হিসাব। দানবাক্সে একসঙ্গে এতো টাকা পাওয়া এই মসজিদের নতুন রেকর্ড।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। তখন ৩ মাস ২৭ দিনে দানবাক্সে জমা হয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। অতীতে প্রায় ৪ মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার খোলা হয়েছে ৬ মাস পর।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

দানবাক্স থেকে বের করে টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদের তহবিলে বর্তমানে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের দাতাদের জন্য পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই মসজিদে অনুদান পাঠানো যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণও চালু হয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে, যা ডিজিটাল মাধ্যমে দান কার্যক্রমে মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ ও জামাকাপড় দেওয়া হয়। ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে পাগলা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গণনা শেষে পাওয়া গেছে এ হিসাব। দানবাক্সে একসঙ্গে এতো টাকা পাওয়া এই মসজিদের নতুন রেকর্ড।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। তখন ৩ মাস ২৭ দিনে দানবাক্সে জমা হয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। অতীতে প্রায় ৪ মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার খোলা হয়েছে ৬ মাস পর।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

দানবাক্স থেকে বের করে টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদের তহবিলে বর্তমানে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের দাতাদের জন্য পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই মসজিদে অনুদান পাঠানো যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণও চালু হয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে, যা ডিজিটাল মাধ্যমে দান কার্যক্রমে মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ ও জামাকাপড় দেওয়া হয়। ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে পাগলা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়।