গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ

ডেস্ক নিউজ
- প্রকাশের সময় : ০৪:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 8

ভেজাল শিশুখাদ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে দেশের বাজার। কৃত্রিম রং, রাসায়নিক উপাদান ও ফ্লেভার মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ফলের জুস, জেলি ও আইস ললি। আরও মারাত্মক বিষয় হলো, ফেলে দেওয়া মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের অত্যন্ত লোভনীয় চকলেট ও সন্দেশ। সম্প্রতি বিভিন্ন কারখানায় অনুসন্ধানে নেমে শিশুখাদ্য তৈরির এমন ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।
অনুসন্ধান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ফলের কোনো অস্তিত্ব ছাড়াই কেবল ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কৃত্রিম রং দিয়ে আম, লিচু ও আনারসের জুস, জেলি এবং আইস ললি তৈরি করা হচ্ছে। কারখানার পেছনের আরেকটি কক্ষে স্তূপ করে রাখা পচা উপাদান ও নোংরা আবর্জনার ভেতর থেকেই এসব খাবার প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল।
সাভারের আরেকটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায় আরও বীভৎস পরিবেশ। সেখানে ড্রামভর্তি পাঁচ থেকে ছয় দিন আগের ফেলে দেওয়া মিষ্টির সিরা ও পচা দই জমিয়ে রাখা হয়েছে। এসব সিরা ও দইয়ের ওপর মাছি ও নানা ধরনের পোকামাকড় মরে ভাসছে। প্যাকেটের গায়ে দুধ ও চিনির উপাদানের কথা উল্লেখ থাকলেও মূলত মিষ্টির দোকানের ফেলে দেওয়া ওই সিরা ও পচা দই আটার সঙ্গে জ্বাল দিয়েই তৈরি হচ্ছে শিশুদের সন্দেশ ও চকলেট। নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে তৈরি এসব পণ্যের গন্তব্য রাজধানীর চকবাজার হয়ে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল।
কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শুধু রূপগঞ্জ বা সাভার নয়; রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও আশুলিয়াতেও গড়ে উঠেছে ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরির এমন বহু কারখানা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সহজলভ্য ও লাভ বেশি হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ক্ষতিকর জেনে অনেক দোকানি নিজে বিক্রি করলেও নিজ সন্তানদের এসব খাবার দেন না।
এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব জানান, ভেজালবিরোধী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সত্ত্বেও অসাধু মানসিকতার কারণে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকারি সংস্থার পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান কঠিন উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নজরদারির অভাবে শিশুদের মুখে বিষাক্ত ও পচা খাবার তুলে দেওয়ার এই বেপরোয়া বাণিজ্য জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Tag :




















