পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর

- প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 13

আদালতে জামিন নিতে আসা চিত্রনায়িকা পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের মারধর, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেছেন, তিনি ঘটনাগুলো দেখেননি। তবে এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পরীমনি। শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন পরীমনির সঙ্গে কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য
‘কত বড় সাহস, গায়ে হাত দেয়’—আদালত চত্বরে ক্ষুব্ধ পরীমনি
বিচারপ্রার্থীর মাথায় আঘাতের অভিযোগআদালতের সামনে পরীমনির দেহরক্ষীর আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করেন মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থী। তাঁর বড় ভাই প্রথম আলোকে জানান, পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলায় তাঁরা আদালতে এসেছিলেন। দুই ভাই আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা তাঁদের ধাক্কা দেন এবং সুজনের মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা থেকে রক্ত বের হতে থাকে।সুজনের বড় ভাই বলেন, ‘আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পরীমনির দুজন দেহরক্ষী এসে ধাক্কা দেয় আর মাথায় আঘাত করে।’ঘটনার পর উপস্থিত কয়েকজন তাঁদের পাশের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
আদালতে ঢুকতে বাধা, সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাআজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন পরীমনি। কিছুক্ষণ গাড়িতে অবস্থানের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে নামেন তিনি।পরে লিফটে উঠে প্রথমে ভুল আদালতকক্ষে ঢোকেন পরীমনি। তাঁর আইনজীবীর সহকারী সেখানে গিয়ে অন্য আদালতে শুনানি হওয়ার কথা জানালে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। এরপর আরেকটি আদালতকক্ষে গিয়ে সেখানেও শুনানি হবে না জানতে পেরে একতলা নিচে সংশ্লিষ্ট আদালতে যান। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছে পেছনের বেঞ্চে বসেন তিনি।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা
এ সময় পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও কয়েকজন আইনজীবীকে আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা এর প্রতিবাদ জানান। আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলের মধ্যে জামিন আবেদনের শুনানি হয়।
৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি
পরীমনির আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল আগের দিন অসুস্থ থাকায় হাজির হতে পারেননি। তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইছেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।শুনানির পর আদালত ভবনের নিচেও কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে। পরে সাংবাদিকেরা মুঠোফোন ফেরত পান।গাড়িতে ওঠার আগে পরীমনিও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়।’ মুঠোফোন হাতে থাকা ওই ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ভিডিও করছিলেন। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়েন।























