বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ব্রাজিলের ফুটবলাররা কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পারছেন না চীনের মন রক্ষায় কেন মরিয়া রিয়াল ও লা লিগা, কোথায় আটকা পেটে খাবার ছিল না, পায়ে ছিল না জুতা, সেই ছেলে আজ রিয়াল মাদ্রিদের তারকা এমন হারের দায় কি শুধুই নাজমুল–লিটনদের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসতে রাজি ভারত কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া কালজয়ী গান এবার পিয়ানো ভার্সনে ওয়ানডেতে কোহলির সেরা ইনিংস: ৫৫ সেঞ্চুরির ওপরে সেই ৪৩ রান পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর মাঠের বাইরে দি মারিয়া আসলে কেমন মানুষ: তাঁর অজানা কিছু গল্প ফিডব্যাকের ৫০ বছর: সারাদেশে কনসার্টসহ আরও যত পরিকল্পনা

জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসতে রাজি ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 3
জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসতে রাজি ভারত

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণেই যা একটু অনিশ্চয়তা। সেটি যদি এবার দূর হয়ে যায়, তবে আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তিন ওয়ানডে ও তিন টি–টুয়েন্টির অপেক্ষমাণ সিরিজটি খেলতে বাংলাদেশে আসতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট দল।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এরই মধ্যে জানুয়ারি মাসের প্রথম ভাগে সিরিজ খেলার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে বিসিবির একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা একটা উইন্ডো (সময়) নিয়ে আলোচনা করছি। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের আলোচনা যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি আশাবাদী, ভারতীয় দল সিরিজটি খেলতে বাংলাদেশে আসবে। দুই বোর্ড ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে।’ সিরিজটি কবে হতে পারে, জানতে চাইলে তামিম এখনই তা বলতে রাজি হননি।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

তবে সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল সফরের ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন। সিরিজটি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে, এমন আভাস দেন তিনি।

সিরিজটি নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে আরও আগে থেকেই ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। আইসিসি ও এসিসির সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবেও কথা বলেছেন বোর্ড সভাপতি তামিম। সর্বশেষ এক জুম মিটিংয়ে জানুয়ারির শুরুতে সিরিজটি খেলার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হন দুই বোর্ডের কর্মকর্তারা। জানুয়ারিতে ভারতের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি আছে, সেটি মাথায় রেখেই সিরিজটি মাসের শুরুর দিকে আয়োজনের চিন্তা।

শুধু বিসিবি ও বিসিসিআই একমত হলেই হবে না, রাজনৈতিক কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের সবুজ সংকেত প্রয়োজন হবে। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বিসিবির আলোচনায় যদিও সরকারের অনুমতি বা সবুজ সংকেতের বিষয়টি আসছে না, তবু দুই বোর্ডের উপলব্ধিতেই বিষয়টি আছে।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিসিসিআই যেহেতু আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সিরিজের সময়ের ব্যাপারেও মোটামুটি একমত হয়েছে; আমরা ধরে নিচ্ছি তাদের (ভারত) সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক। এ বিষয়ে আমরাও আমাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।’ জানুয়ারিতে সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, ‘সেভাবেই সব এগোচ্ছে।’ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে গেলে তখনো এ নিয়ে তাঁদের কথা হয়।

আমরা খেলাধুলাকে সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক এবং এই সম্পর্ক যেন জোরদার থাকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আমরা আন্তরিকভাবে দেখছি। আমরা চাই তারা এসে আমাদের দেশে খেলুক এবং আমরাও তাদের দেশে গিয়ে খেলতে চাই।আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল হক গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা খেলাধুলাকে সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক এবং এই সম্পর্ক যেন জোরদার থাকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আমরা আন্তরিকভাবে দেখছি। আমরা চাই তারা এসে আমাদের দেশে খেলুক এবং আমরাও তাদের দেশে গিয়ে খেলতে চাই।’ ভারতীয় দল জানুয়ারি মাসেই আসবে কি না, এমন প্রশ্নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে সিরিজ আয়োজনের একটা আলোচনা চলছে। তবে আমার জানামতে সময়টা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’বাংলাদেশে দল পাঠানোর ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে কতটা ইতিবাচক মনে হচ্ছে, জানতে চাইলে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘তাঁরা যদি ইতিবাচক না থাকতেন, তাঁরা এটা নিয়ে আলোচনা করতেন না, জুম মিটিং করতেন না, নতুন তারিখ বের করতেন না। বাংলাদেশে না এলে তাঁদের তো দরকার নেই এগুলো করার!’ ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিসিসিআইয়ের আলোচনার ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি নিশ্চিত, বিসিসিআই তাদের সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে, নয়তো তারা এগোত না।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসতে রাজি ভারত

প্রকাশের সময় : ০৩:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণেই যা একটু অনিশ্চয়তা। সেটি যদি এবার দূর হয়ে যায়, তবে আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তিন ওয়ানডে ও তিন টি–টুয়েন্টির অপেক্ষমাণ সিরিজটি খেলতে বাংলাদেশে আসতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট দল।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এরই মধ্যে জানুয়ারি মাসের প্রথম ভাগে সিরিজ খেলার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে বিসিবির একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা একটা উইন্ডো (সময়) নিয়ে আলোচনা করছি। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের আলোচনা যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি আশাবাদী, ভারতীয় দল সিরিজটি খেলতে বাংলাদেশে আসবে। দুই বোর্ড ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে।’ সিরিজটি কবে হতে পারে, জানতে চাইলে তামিম এখনই তা বলতে রাজি হননি।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

তবে সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল সফরের ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন। সিরিজটি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে, এমন আভাস দেন তিনি।

সিরিজটি নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে আরও আগে থেকেই ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। আইসিসি ও এসিসির সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবেও কথা বলেছেন বোর্ড সভাপতি তামিম। সর্বশেষ এক জুম মিটিংয়ে জানুয়ারির শুরুতে সিরিজটি খেলার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হন দুই বোর্ডের কর্মকর্তারা। জানুয়ারিতে ভারতের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি আছে, সেটি মাথায় রেখেই সিরিজটি মাসের শুরুর দিকে আয়োজনের চিন্তা।

শুধু বিসিবি ও বিসিসিআই একমত হলেই হবে না, রাজনৈতিক কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের সবুজ সংকেত প্রয়োজন হবে। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বিসিবির আলোচনায় যদিও সরকারের অনুমতি বা সবুজ সংকেতের বিষয়টি আসছে না, তবু দুই বোর্ডের উপলব্ধিতেই বিষয়টি আছে।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিসিসিআই যেহেতু আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সিরিজের সময়ের ব্যাপারেও মোটামুটি একমত হয়েছে; আমরা ধরে নিচ্ছি তাদের (ভারত) সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক। এ বিষয়ে আমরাও আমাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।’ জানুয়ারিতে সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, ‘সেভাবেই সব এগোচ্ছে।’ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে গেলে তখনো এ নিয়ে তাঁদের কথা হয়।

আমরা খেলাধুলাকে সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক এবং এই সম্পর্ক যেন জোরদার থাকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আমরা আন্তরিকভাবে দেখছি। আমরা চাই তারা এসে আমাদের দেশে খেলুক এবং আমরাও তাদের দেশে গিয়ে খেলতে চাই।আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল হক গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা খেলাধুলাকে সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক এবং এই সম্পর্ক যেন জোরদার থাকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আমরা আন্তরিকভাবে দেখছি। আমরা চাই তারা এসে আমাদের দেশে খেলুক এবং আমরাও তাদের দেশে গিয়ে খেলতে চাই।’ ভারতীয় দল জানুয়ারি মাসেই আসবে কি না, এমন প্রশ্নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে সিরিজ আয়োজনের একটা আলোচনা চলছে। তবে আমার জানামতে সময়টা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’বাংলাদেশে দল পাঠানোর ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে কতটা ইতিবাচক মনে হচ্ছে, জানতে চাইলে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘তাঁরা যদি ইতিবাচক না থাকতেন, তাঁরা এটা নিয়ে আলোচনা করতেন না, জুম মিটিং করতেন না, নতুন তারিখ বের করতেন না। বাংলাদেশে না এলে তাঁদের তো দরকার নেই এগুলো করার!’ ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিসিসিআইয়ের আলোচনার ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি নিশ্চিত, বিসিসিআই তাদের সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে, নয়তো তারা এগোত না।’