শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
হাসান মাহমুদের দিনে বাংলাদেশের আশা হৃদয়–মুশফিক সেদিনের শিশুটি পরে অস্কার জিতেছেন, ৭৩০ কোটি টাকার মালিক আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ: দল পেলেন বাংলাদেশের সাকিব, নাহিদ ও শামীম হাঁসের ঢঙে হাঁটবে-খেলবে ছোট্ট রোবট ‘মাইক্রোডাক’ শনিবার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল মওকুফ শয্যাদৃশ্যের আগে স্ত্রীর অনুমতি নিয়েছিলেন অভিনেতা আলিফ-সাগর-রাফির নৈপুণ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সোনা মাধবপাশায় পবিপ্রবি ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের বিনামূল্যে প্রাণিসম্পদ ক্যাম্প এমবাপেকে ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল দুর্নীতির অভিযোগে মান্দার কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

মাঠের বাইরে দি মারিয়া আসলে কেমন মানুষ: তাঁর অজানা কিছু গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 11
মাঠের বাইরে দি মারিয়া আসলে কেমন মানুষ: তাঁর অজানা কিছু গল্প

আনহেল দি মারিয়াকে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করেছেন, তাঁরা সম্ভবত দুটি বিষয়ে একমত হবেন। এক. দি মারিয়া প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতি। দুই. তিনি তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু এই ফুটবলার দি মারিয়ার ভেতরের মানুষটা কেমন, চার দেয়ালের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে কেমন তাঁর পৃথিবী—এই প্রশ্ন আছে অনেকেরই।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

বেকহাম: ঘৃণা থেকে ভালোবাসা এবং এক কিংবদন্তির বর্ণিল পথচলা

শুধু তা–ই নয়, দি মারিয়ার ক্যারিয়ার নিয়েও সমর্থকদের কৌতূহলও আছে অনেক। আর্জেন্টাইন পরিচালক হুয়ান বালদানার বানানো ‘আনহেল দি মারিয়া: ব্রেকিং ডাউন দ্য ওয়াল’ তথ্যচিত্রে দি মারিয়ার দুই পৃথিবীর গল্পই আছে, যা দেখতে দেখতে কখনো চোখটা ভিজে আসতে পারে, কখনো আবার মনে হতে পারে, সার্থক জন্ম কিংবদন্তির।বেনফিকা ছেড়ে কিছুদিন আগে শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরেছেন দি মারিয়া। বালদানা তাঁকে নিয়ে তথ্যচিত্রের গল্পটা শুরু করেছেন রোজারিও থেকে, থেমেছেন আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপ জয় ও গত বছর কোপা আমেরিকা জয়ে এসে—যেটা আবার দি মারিয়ার জাতীয় দল ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচ। তথ্যচিত্রটি তিন পর্বে ভাগ করা হয়েছে দি মারিয়ারের ক্যারিয়ারে তিনটি বাঁক ধরে। প্রথম পর্বের নাম ‘২৬ ফুটবলস’ রাখার পেছনে রয়েছে সে গল্পটি। কারও কারও জানা থাকতে পারে—২৬টি ফুটবলের বিনিময়ে স্থানীয় ক্লাব থেকে দি মারিয়াকে কিনেছিল রোজারিও।

তথ্যচিত্রে এ গল্পটাই বলেছেন দি মারিয়ার বাবা–মা। কখনো আবার দি মারিয়া নিজে। মায়ের অবদানের প্রসঙ্গ উঠতে দি মারিয়ার শিশুর মতো কান্নার দৃশ্য দেখে কেউ কেউ চোখ মুছতে পারেন। ছেলে যেন ভুল পথে না যায়, সে জন্য বাবার যে কড়া শাসন ও যত্ন—সেই গল্প বলেছেন দি মারিয়ার বাবা মিগুয়েল। মা ডায়ানা সাইকেল চালিয়ে দি মারিয়াকে অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া, সেখানে ছেলের অনুশীলন, এসবের প্রচুর পুরোনো ফুটেজ গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একদম সঠিক মুহূর্তে ব্যবহার করায় বালদানা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

আশ্চর্য সেই জয়ের গল্প ‘গেম অব দেয়ার লাইভস’

আরেকটি ফুটেজ দি মারিয়ার সমর্থকদের কাছে অমূল্য মনে হতে পারে। বেনফিকা থেকে রিয়াল মাদ্রিদে সই করে দি মারিয়া যেদিন স্পেনে পা রাখলেন, সেদিন বিমানবন্দরে এক তরুণী দি মারিয়াকে তাঁর প্রেমিকার সামনে একটি চিরকুটে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল দি মারিয়ার রিয়ালে খেলার স্বপ্ন। রোজারিও সমর্থক থেকে দি মারিয়ার সমর্থক এবং পরে প্রেমিকা থেকে তাঁর বউ বনে যাওয়া হোর্হেলিনা কারদাসো সেই গল্প বলেছেন। আর দি মারিয়ার গল্প বলার প্রয়োজনেই একে একে এসেছেন লিওনেল মেসি, নেইমার, এজেকুয়েল লাভেজ্জি, সের্হিও রামোস, মার্সেলো, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জোসে মরিনিও, কার্লো আনচেলত্তি।তাঁরা সবাই একযোগে গল্প বলেছেন দি মারিয়ার।

বিশেষ করে মরিনিও বলেছেন তাঁর রিয়ালের গল্প—যেটা তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব ‘নো ওয়ান ইজ আ প্রফেট ইন দেওয়ার ওন ল্যান্ড’। শিরোনামেই বুঝতে পারছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু দি মারিয়ার জন্য একেবারে পুষ্পশয্যা ছিল না। ভেতরের অনেক অজানা বিষয়ই বেরিয়ে এসেছে এই পর্বে। বাদ যায়নি তাঁর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও পিএসজিতে থাকার গল্পও।‘ফ্রম কোল টু গোল্ড’ নামে শেষ পর্বটি আসলে দি মারিয়ার শাপমোচনের গল্প। জাতীয় দলে খেলার মতো ফিট নন, আর্জেন্টিনাকে কিছু জেতাতে পারেন না—এমন অপবাদ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও কোপা জেতানো, একের পর এক ফাইনালে গোল করা, এসবের বয়ান আছে শেষ পর্বে। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সবার জানা গল্পটাই বালদানা এমনভাবে দি মারিয়ার সতীর্থদের মুখ দিয়ে বের করেছেন, যা শুনতে নতুন লাগতে পারে। কারণ, আমরা শুধু মাঠের খেলাটাই দেখতে পাই, সেসব সময়ে ড্রেসিংরুম কিংবা ভেতরকার পরিস্থিতির গল্পটা তুলে এনে নতুন কিছু উপহার দিয়েছেন বালদানা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাঠের বাইরে দি মারিয়া আসলে কেমন মানুষ: তাঁর অজানা কিছু গল্প

প্রকাশের সময় : ০৩:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আনহেল দি মারিয়াকে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করেছেন, তাঁরা সম্ভবত দুটি বিষয়ে একমত হবেন। এক. দি মারিয়া প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতি। দুই. তিনি তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু এই ফুটবলার দি মারিয়ার ভেতরের মানুষটা কেমন, চার দেয়ালের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে কেমন তাঁর পৃথিবী—এই প্রশ্ন আছে অনেকেরই।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

বেকহাম: ঘৃণা থেকে ভালোবাসা এবং এক কিংবদন্তির বর্ণিল পথচলা

শুধু তা–ই নয়, দি মারিয়ার ক্যারিয়ার নিয়েও সমর্থকদের কৌতূহলও আছে অনেক। আর্জেন্টাইন পরিচালক হুয়ান বালদানার বানানো ‘আনহেল দি মারিয়া: ব্রেকিং ডাউন দ্য ওয়াল’ তথ্যচিত্রে দি মারিয়ার দুই পৃথিবীর গল্পই আছে, যা দেখতে দেখতে কখনো চোখটা ভিজে আসতে পারে, কখনো আবার মনে হতে পারে, সার্থক জন্ম কিংবদন্তির।বেনফিকা ছেড়ে কিছুদিন আগে শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরেছেন দি মারিয়া। বালদানা তাঁকে নিয়ে তথ্যচিত্রের গল্পটা শুরু করেছেন রোজারিও থেকে, থেমেছেন আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপ জয় ও গত বছর কোপা আমেরিকা জয়ে এসে—যেটা আবার দি মারিয়ার জাতীয় দল ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচ। তথ্যচিত্রটি তিন পর্বে ভাগ করা হয়েছে দি মারিয়ারের ক্যারিয়ারে তিনটি বাঁক ধরে। প্রথম পর্বের নাম ‘২৬ ফুটবলস’ রাখার পেছনে রয়েছে সে গল্পটি। কারও কারও জানা থাকতে পারে—২৬টি ফুটবলের বিনিময়ে স্থানীয় ক্লাব থেকে দি মারিয়াকে কিনেছিল রোজারিও।

তথ্যচিত্রে এ গল্পটাই বলেছেন দি মারিয়ার বাবা–মা। কখনো আবার দি মারিয়া নিজে। মায়ের অবদানের প্রসঙ্গ উঠতে দি মারিয়ার শিশুর মতো কান্নার দৃশ্য দেখে কেউ কেউ চোখ মুছতে পারেন। ছেলে যেন ভুল পথে না যায়, সে জন্য বাবার যে কড়া শাসন ও যত্ন—সেই গল্প বলেছেন দি মারিয়ার বাবা মিগুয়েল। মা ডায়ানা সাইকেল চালিয়ে দি মারিয়াকে অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া, সেখানে ছেলের অনুশীলন, এসবের প্রচুর পুরোনো ফুটেজ গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একদম সঠিক মুহূর্তে ব্যবহার করায় বালদানা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

আশ্চর্য সেই জয়ের গল্প ‘গেম অব দেয়ার লাইভস’

আরেকটি ফুটেজ দি মারিয়ার সমর্থকদের কাছে অমূল্য মনে হতে পারে। বেনফিকা থেকে রিয়াল মাদ্রিদে সই করে দি মারিয়া যেদিন স্পেনে পা রাখলেন, সেদিন বিমানবন্দরে এক তরুণী দি মারিয়াকে তাঁর প্রেমিকার সামনে একটি চিরকুটে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল দি মারিয়ার রিয়ালে খেলার স্বপ্ন। রোজারিও সমর্থক থেকে দি মারিয়ার সমর্থক এবং পরে প্রেমিকা থেকে তাঁর বউ বনে যাওয়া হোর্হেলিনা কারদাসো সেই গল্প বলেছেন। আর দি মারিয়ার গল্প বলার প্রয়োজনেই একে একে এসেছেন লিওনেল মেসি, নেইমার, এজেকুয়েল লাভেজ্জি, সের্হিও রামোস, মার্সেলো, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জোসে মরিনিও, কার্লো আনচেলত্তি।তাঁরা সবাই একযোগে গল্প বলেছেন দি মারিয়ার।

বিশেষ করে মরিনিও বলেছেন তাঁর রিয়ালের গল্প—যেটা তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব ‘নো ওয়ান ইজ আ প্রফেট ইন দেওয়ার ওন ল্যান্ড’। শিরোনামেই বুঝতে পারছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু দি মারিয়ার জন্য একেবারে পুষ্পশয্যা ছিল না। ভেতরের অনেক অজানা বিষয়ই বেরিয়ে এসেছে এই পর্বে। বাদ যায়নি তাঁর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও পিএসজিতে থাকার গল্পও।‘ফ্রম কোল টু গোল্ড’ নামে শেষ পর্বটি আসলে দি মারিয়ার শাপমোচনের গল্প। জাতীয় দলে খেলার মতো ফিট নন, আর্জেন্টিনাকে কিছু জেতাতে পারেন না—এমন অপবাদ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও কোপা জেতানো, একের পর এক ফাইনালে গোল করা, এসবের বয়ান আছে শেষ পর্বে। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সবার জানা গল্পটাই বালদানা এমনভাবে দি মারিয়ার সতীর্থদের মুখ দিয়ে বের করেছেন, যা শুনতে নতুন লাগতে পারে। কারণ, আমরা শুধু মাঠের খেলাটাই দেখতে পাই, সেসব সময়ে ড্রেসিংরুম কিংবা ভেতরকার পরিস্থিতির গল্পটা তুলে এনে নতুন কিছু উপহার দিয়েছেন বালদানা।