মৃত্যুর রাতে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন তাহসিফ

- প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 8

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। মৃত্যুর আগের রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে এক তরুণী ও তাঁর ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ ও বের হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও ওই তরুণী। তাঁরা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ। পরে তিনজন একসঙ্গে রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।
অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের জন্য অপেক্ষা করছেন। হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাঁরা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে ওই তরুণীকে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের চলাচল ও বিভিন্ন স্থানে তাঁর অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে দীপ তাহসিফকে তাঁর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, তাহসিফ তাঁর বড় ভাই ও সিনিয়র ছিলেন।






















