‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে’

- প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরুত্থান ঠেকাতে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যাতে তা টেকসই হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এটি দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম মূল কারণ। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী রাজনৈতিক ধারাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহিও আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, যেন রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে।
সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি এবং গণভোটের মতো বিষয় নিয়ে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চাই না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে ঐক্য এবং রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য।






















