অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি জানালেন মা
- প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নিহত অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি অভিযুক্ত তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন তার মা।
অভিযুক্ত তুহিনের মা জানান, পুলিশের সদস্যরা তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে তার ঘরে তল্লাশি চালান। এ সময় বিছানার নিচে একটি কালো ব্যাগের ভেতর থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর খাওয়া-দাওয়া শেষে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বিকেলে সে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর আবারও বাড়ি থেকে বের হয় এবং রাত ৯টার দিকে ফিরে আসে। এরপর রাতে সে ঘুমিয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তুহিনের মা।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান কুমিল্লার গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তার মায়ের আইফোন উদ্ধারের বিষয়ে অভিযুক্তের পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীরা ১২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।






















