গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের ছেলেসহ নিহত ৪
- প্রকাশের সময় : ১২:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় এক শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশও রয়েছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে চিকিৎসাসূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া শুক্রবারের হামলায় আহত আরও একজন শনিবার মারা যান।
শনিবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান বাজার এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে।
হামলার পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটি জ্বলতে থাকে। পরে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নেভান। মরদেহটি আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়িটি জ্বলছিল। নিহত ব্যক্তির মরদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল বলেও তিনি জানান।
শনিবার উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশ। আজ-জাহরা এলাকায় একটি শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম দিকে এ হামলা চালানো হয়। এতে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলায় আহত বাসিরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলজাজিরার হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুনির আল-বুরশ তার ছেলের কম্বলে মোড়ানো মরদেহ বহন করছেন। পরে স্বজন ও শোকাহতদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মুনির আল-বুরশ বলেন, তারা পাশাপাশি ছিলেন। তার ছেলে বাসির তাকে বলেছিল, ইসরাইলিরা তাদের দুজনকেই লক্ষ্য করছে। এরপর তাঁবু থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাসির নিহত হন বলে তিনি জানান।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সংগঠনগুলোর পরিচালিত বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলার সময় হামলাটি হয়। একটি ফিল্ড হাসপাতালের পেছনে এসব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সময় বাসিরকে ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসিরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।
আলজাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ জানান, হামলাটি কেন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি।



















