ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- প্রকাশের সময় : ১২:২৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া কারাদণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া এ রায়ে তিনটি অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়টি জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। এর আগে গত ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় হাসানুল হক ইনুকে।
মামলার ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র, তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও দলিল রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়া, আন্দোলন দমনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগ রয়েছে ইনুর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়ার পর ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনাতেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়।
আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসানুল হক ইনু। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্দোলন দমন এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে আরও বলা হয়, হাসানুল হক ইনু শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আন্দোলন দমনে কারফিউ বহাল, দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার এবং ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি ও নির্দেশনায় যুক্ত ছিলেন।
কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামে। সকাল ১০টার দিকে হাজারো মানুষ হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হয়ে চৌড়হাস হয়ে মজমপুরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই সময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান।
অভিযোগে বলা হয়, ওই গুলিতে দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয় এবং পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন।




















