ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ
- প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) তিনটি যাত্রীবাহী জাহাজকে আধুনিক ‘ভাসমান হাসপাতাল’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিআইডব্লিউটিসির অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি, এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধাকে এ কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসি টার্মিনালে এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী।
এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকবৃন্দসহ দুই মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সরকারের এ সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নৌপথ ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে। জাহাজগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে বিআইডব্লিউটিসি একসঙ্গে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে জাহাজগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব ও বহির্বিভাগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা স্বাভাবিক সময়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষজন মূল ভূখণ্ডে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সময় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এ জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী এবং ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।




















