Dhaka ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইট-বালুর কর্মজীবন ছাপিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের ফুটবল উৎসব পাকিস্তানে জুমার নামাজের আগে মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ১৬ মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ, সতর্ক করল ইরান কোটালীপাড়ায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ শেখ হাসিনা যখনই আসুক, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: পর্যটনমন্ত্রী শার্শায় ফেনসিডিল মামলায় স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন গুগল ড্রাইভের স্টোরেজ শেষ? টেলিগ্রামে ফাইল রাখবেন যেভাবে অস্ত্রের তথ্যদাতাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে: এসআরবি নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুবকর সিদ্দিকের ইন্তেকাল মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ৬ বার উদ্যোগ নিয়েও কেন ক্ষমা চায়নি জামায়াত?

ইট-বালুর কর্মজীবন ছাপিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের ফুটবল উৎসব

ইমদাদুল হক রানা, বালিয়াকান্দী
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

সারাদিন ইট, বালু, সিমেন্ট আর লোহার সঙ্গে লড়াই। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘাম ঝরিয়ে অন্যের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করেন তারা। সেই কর্মব্যস্ত নির্মাণ শ্রমিকরাই একদিনের জন্য হাতে তুলে নিলেন ফুটবল। মাঠজুড়ে ছুটলেন, খেললেন, উল্লাস করলেন। তাঁদের সেই আয়োজন হয়ে উঠল শ্রমজীবী মানুষের মিলনমেলা।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী উপজেলার বাড়াদী রেলওয়ে ফুটবল মাঠে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। বহরপুর-ইসলামপুর নির্মাণ শিল্পী অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এতে অংশ নেন স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রিরা।

সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া নকআউট পদ্ধতির এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ছয়টি দল—হেলাল ফুটবল একাদশ, রবিউল ফুটবল একাদশ, সুমন ও কাকন ফুটবল একাদশ, মাসুদ ফুটবল একাদশ, দেলোয়ার ফুটবল একাদশ ও নাসির ফুটবল একাদশ।

দিনভর খেলায় মাঠে ছিল উত্তেজনা, দর্শকদের করতালি আর খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। কর্মক্ষেত্রের পরিচিত মুখগুলোকে এদিন দেখা যায় ভিন্ন ভূমিকায়—কেউ খেলোয়াড়, কেউ সমর্থক, আবার কেউ প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটিয়েছেন।

বিকেলে গড়ায় প্রতিযোগিতার ফাইনাল। মুখোমুখি হয় মাসুদ ফুটবল একাদশ ও রবিউল ফুটবল একাদশ। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ১-০ গোলে মাসুদ ফুটবল একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রবিউল ফুটবল একাদশ।

খেলা পরিচালনা করেন রেফারি নাজমুল হাসান। সহকারী রেফারি ছিলেন খায়রুল ইসলাম ও মিঠুন।

টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন আলী মনছুর খান, ইজাজুল হক মুনা, কাজী পনির, সিরাজুর রহমান ঝন্টু, শাহিদুল ইসলাম মাস্টারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুসাইন মন্ডল বলেন, ‘নির্মাণ শ্রমিকরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। কাজের ব্যস্ততায় তাঁদের বিনোদনের সুযোগ কম। শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।’

সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু শেখ বলেন, ‘খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ায়। একই পেশায় যুক্ত শ্রমিকদের একত্রিত করার পাশাপাশি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

টুর্নামেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বহরপুরের মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্স। স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে আকিজ গ্রুপ, আবুল খায়ের স্টিল ও ওয়ান স্টারের রাজবাড়ী অঞ্চলের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান।

মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ হারুন বলেন, ‘নির্মাণ শ্রমিকদের শ্রমের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তাঁদের বিনোদন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির এমন উদ্যোগে পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের কল্যাণে সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করব।’

সকাল থেকেই খেলা দেখতে মাঠে জড়ো হন স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের মিলন—সব মিলিয়ে বাড়াদী রেলওয়ে মাঠে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। কর্মের কঠিন বাস্তবতার বাইরে ফুটবল যেন নির্মাণ শ্রমিকদের এনে দিয়েছিল একটুকরো আনন্দ, পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে নতুন করে মিলিত হওয়ার সুযোগ এবং নিজেদের জন্য একটি দিন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইট-বালুর কর্মজীবন ছাপিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের ফুটবল উৎসব

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদিন ইট, বালু, সিমেন্ট আর লোহার সঙ্গে লড়াই। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘাম ঝরিয়ে অন্যের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করেন তারা। সেই কর্মব্যস্ত নির্মাণ শ্রমিকরাই একদিনের জন্য হাতে তুলে নিলেন ফুটবল। মাঠজুড়ে ছুটলেন, খেললেন, উল্লাস করলেন। তাঁদের সেই আয়োজন হয়ে উঠল শ্রমজীবী মানুষের মিলনমেলা।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী উপজেলার বাড়াদী রেলওয়ে ফুটবল মাঠে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। বহরপুর-ইসলামপুর নির্মাণ শিল্পী অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এতে অংশ নেন স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রিরা।

সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া নকআউট পদ্ধতির এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ছয়টি দল—হেলাল ফুটবল একাদশ, রবিউল ফুটবল একাদশ, সুমন ও কাকন ফুটবল একাদশ, মাসুদ ফুটবল একাদশ, দেলোয়ার ফুটবল একাদশ ও নাসির ফুটবল একাদশ।

দিনভর খেলায় মাঠে ছিল উত্তেজনা, দর্শকদের করতালি আর খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। কর্মক্ষেত্রের পরিচিত মুখগুলোকে এদিন দেখা যায় ভিন্ন ভূমিকায়—কেউ খেলোয়াড়, কেউ সমর্থক, আবার কেউ প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটিয়েছেন।

বিকেলে গড়ায় প্রতিযোগিতার ফাইনাল। মুখোমুখি হয় মাসুদ ফুটবল একাদশ ও রবিউল ফুটবল একাদশ। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ১-০ গোলে মাসুদ ফুটবল একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রবিউল ফুটবল একাদশ।

খেলা পরিচালনা করেন রেফারি নাজমুল হাসান। সহকারী রেফারি ছিলেন খায়রুল ইসলাম ও মিঠুন।

টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন আলী মনছুর খান, ইজাজুল হক মুনা, কাজী পনির, সিরাজুর রহমান ঝন্টু, শাহিদুল ইসলাম মাস্টারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুসাইন মন্ডল বলেন, ‘নির্মাণ শ্রমিকরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। কাজের ব্যস্ততায় তাঁদের বিনোদনের সুযোগ কম। শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।’

সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু শেখ বলেন, ‘খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ায়। একই পেশায় যুক্ত শ্রমিকদের একত্রিত করার পাশাপাশি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

টুর্নামেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বহরপুরের মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্স। স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে আকিজ গ্রুপ, আবুল খায়ের স্টিল ও ওয়ান স্টারের রাজবাড়ী অঞ্চলের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান।

মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ হারুন বলেন, ‘নির্মাণ শ্রমিকদের শ্রমের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তাঁদের বিনোদন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির এমন উদ্যোগে পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের কল্যাণে সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করব।’

সকাল থেকেই খেলা দেখতে মাঠে জড়ো হন স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের মিলন—সব মিলিয়ে বাড়াদী রেলওয়ে মাঠে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। কর্মের কঠিন বাস্তবতার বাইরে ফুটবল যেন নির্মাণ শ্রমিকদের এনে দিয়েছিল একটুকরো আনন্দ, পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে নতুন করে মিলিত হওয়ার সুযোগ এবং নিজেদের জন্য একটি দিন।