রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান ‘প্রবাসীরা আসায় স্থানীয়দেরও উন্নতির তাগিদ তৈরি হয়েছে’ কোল্লাপাথর: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, জেমস এলেন রাত ১০টায়… আট কারণে উদ্বোধনের আগেই ‘লেজেগোবরে’ সাফ জুলাই চেতনার মালিকানা দাবি করতে থাকলে নবীন বন্ধুরা নবীনই থেকে যাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ টিভিতে যা যা দেখবেন (৬ নভেম্বর, ২০২৬) একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদীরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে: শামা ওবায়েদ খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’র সুর শাহরুখের সিনেমার গানে? মৌসুমীর ভিন্নমত

কোটালীপাড়ায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 152

বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালিগঞ্জ নদীতে আনন্দমুখর পরিবেশে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত এ নৌকাবাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও বরিশালের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা ২০টি বাচারি নৌকা অংশ নেয়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর নৌকা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আবহমান গ্রামবাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে কালিগঞ্জের বাবুর খালের কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকাবাইচকে ঘিরে খালের দুই পাড়ে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। নৌকায় ও ট্রলারে করে বাইচ দেখতে আসা নারী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় প্রতিযোগিতা।

দুপুর থেকেই নানা রঙ ও সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো কাঁসর-কাঁসি ও নাকাড়ার তালে তালে বাইচ শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে একের পর এক কুচ বা ছোপ। বাদ্যের তালে জারি-সারি গান গেয়ে মাঝিরা নৌকা চালিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীরা করতালির মাধ্যমে মাঝিদের উৎসাহ দেন। নৌকায় নৌকায় মেলাও ছিল এ আয়োজনের বাড়তি আকর্ষণ।

স্থানীয় কলাবাড়ি গ্রামের যতীন বাড়ৈ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কেউ নৌকাবাইচের প্রচলন করেননি। প্রায় ২০০ বছর আগে বিল এলাকার মানুষ চিত্তবিনোদনের জন্য নৌকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতেন। সেখান থেকেই এর প্রচলন। সেই ঐতিহ্য এখনো চলছে।’

নৌকাবাইচ দেখতে আসা বুরুয়া গ্রামের গৃহবধূ সুজাতা বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু আনন্দ পেতেই নৌকার মালিকরা নৌকা নিয়ে এখানে আসেন। এ বাইচ উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসেন, ভালো খাবারের আয়োজন হয়। আমরা সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাচারি নৌকা অনেক কম এসেছে। গত বছরগুলোতে প্রায় শতাধিক নৌকা বাইচে অংশ নিলেও এ বছর ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি নৌকা এসেছে। দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম।’

কলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, ‘কোটালীপাড়ার কালিগঞ্জের নৌকাবাইচ খুবই বর্ণিল। এ অঞ্চলে প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পূজার নৌকাবাইচের মধ্য দিয়ে মৌসুমের বাইচের সূচনা হয়। এরপর দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজাসহ বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন পূজায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এসব নৌকাবাইচের কেউ আয়োজন করেন না। মনের খোরাক মেটাতেই স্থানীয়রা নৌকাবাইচের আয়োজন করেন। এ কারণেই কোটালীপাড়ায় নৌকাবাইচ এখনো সগৌরবে টিকে আছে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কোটালীপাড়ায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ

প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালিগঞ্জ নদীতে আনন্দমুখর পরিবেশে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত এ নৌকাবাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও বরিশালের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা ২০টি বাচারি নৌকা অংশ নেয়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর নৌকা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আবহমান গ্রামবাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে কালিগঞ্জের বাবুর খালের কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকাবাইচকে ঘিরে খালের দুই পাড়ে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। নৌকায় ও ট্রলারে করে বাইচ দেখতে আসা নারী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় প্রতিযোগিতা।

দুপুর থেকেই নানা রঙ ও সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো কাঁসর-কাঁসি ও নাকাড়ার তালে তালে বাইচ শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে একের পর এক কুচ বা ছোপ। বাদ্যের তালে জারি-সারি গান গেয়ে মাঝিরা নৌকা চালিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীরা করতালির মাধ্যমে মাঝিদের উৎসাহ দেন। নৌকায় নৌকায় মেলাও ছিল এ আয়োজনের বাড়তি আকর্ষণ।

স্থানীয় কলাবাড়ি গ্রামের যতীন বাড়ৈ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কেউ নৌকাবাইচের প্রচলন করেননি। প্রায় ২০০ বছর আগে বিল এলাকার মানুষ চিত্তবিনোদনের জন্য নৌকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতেন। সেখান থেকেই এর প্রচলন। সেই ঐতিহ্য এখনো চলছে।’

নৌকাবাইচ দেখতে আসা বুরুয়া গ্রামের গৃহবধূ সুজাতা বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু আনন্দ পেতেই নৌকার মালিকরা নৌকা নিয়ে এখানে আসেন। এ বাইচ উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসেন, ভালো খাবারের আয়োজন হয়। আমরা সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাচারি নৌকা অনেক কম এসেছে। গত বছরগুলোতে প্রায় শতাধিক নৌকা বাইচে অংশ নিলেও এ বছর ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি নৌকা এসেছে। দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম।’

কলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, ‘কোটালীপাড়ার কালিগঞ্জের নৌকাবাইচ খুবই বর্ণিল। এ অঞ্চলে প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পূজার নৌকাবাইচের মধ্য দিয়ে মৌসুমের বাইচের সূচনা হয়। এরপর দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজাসহ বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন পূজায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এসব নৌকাবাইচের কেউ আয়োজন করেন না। মনের খোরাক মেটাতেই স্থানীয়রা নৌকাবাইচের আয়োজন করেন। এ কারণেই কোটালীপাড়ায় নৌকাবাইচ এখনো সগৌরবে টিকে আছে।’