রুটিতে ব্লেডের রহস্য উন্মোচন, তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন চিত্র
- প্রকাশের সময় : ০৮:০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 3
বরিশালের গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষকের ভয়ে এক শিক্ষার্থী নিজেই রুটিতে ব্লেড লুকিয়ে রেখেছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির দাবি, রুটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্লেড ঢুকে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। এদিকে তথ্য যাচাই ছাড়াই ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগে ওই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেন।
ইউএনও মো. ইব্রাহীম জানান, তদন্ত দল রুটি উৎপাদনকারী কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করেছে। ব্যাবহারিক পরীক্ষায়ও দেখা গেছে, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় অক্ষত একটি ব্লেড রুটির ভেতরে চলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি জানতে পারে, সংশ্লিষ্ট ছাত্রী স্কুলে আনা ব্লেড শিক্ষকের বকুনির ভয়ে রুটির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। পরে অন্য এক শিক্ষার্থী বিষয়টি দেখে ফেললে সে নিজেই রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার কথা শিক্ষিকাকে জানায়।
ইউএনওর দাবি, শিক্ষিকা বিষয়টি যাচাই না করেই ছবি তুলে বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খানও বলেন, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থায় অক্ষত ব্লেড রুটির ভেতরে থাকার সুযোগ নেই।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষিকা সারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিনের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার দাবি করলে ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

























