নিজামীপুত্রের ইমামতিতে জুমার নামাজ পড়ানো নিয়ে মসজিদে হাতাহাতি
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 26
পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার একটি মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে গেলে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন। খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত কয়েকজন বিএনপির কর্মী-সমর্থক আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের ভেতরেই এমপির সমর্থক ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াতের এমপি গত শুক্রবারও নামাজ পড়াতে চেয়েছিলেন। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে পারেননি। আজ আবার লোকজন নিয়ে এসে ইমাম সাহেবের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে খুতবা পাঠ ও নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করেন। এ সময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এমপি সাহেব ইচ্ছা করেই ক্ষমতা দেখাতে পবিত্র জুমার দিনে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছা করে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখেই সেখানে গিয়েছি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে তারা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা শুরু করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তারা বাইরের লোকজন এনে আমাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করেছে। পরে এক কর্মীর দোকানে হামলা, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।’
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘এমপির ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে ঝামেলার আশঙ্কা থাকায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।’




















