Dhaka ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে জাবিতে ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে : ইসি মাছউদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ যথেষ্ট নয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে : মামুনুল হক কালীগঞ্জে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল—দাবি জামায়াত নেতার পাংশায় ২৪ প্রহরব্যাপী অখণ্ড তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন শুরু কর্নেল তাহেরের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মানববন্ধন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু, নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ পদত্যাগের পরও আমৃত্যু যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক তিন শতকের ‘যন্তর মন্তর’

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 24

 

প্রায় তিনশো বছর আগে ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়েছিল দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর। মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই মানমন্দির আজ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অন্যতম আন্দোলনের প্রতীক। দিল্লিতে কোনো আন্দোলন বা গণসমাবেশের খবর এলেই যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেটি হলো ‘যন্তর মন্তর’।

সম্প্রতি নিট বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে এই স্থান। একইসঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অবস্থান কর্মসূচিও চলছে এখানেই। তবে প্রশ্ন হলো, কেন দিল্লির প্রতিবাদের কেন্দ্র হয়ে উঠল যন্তর মন্তর?

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশপাশে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে রাজধানীর প্রধান প্রতিবাদস্থল ছিল বোট ক্লাব এলাকা। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে বোট ক্লাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারণ করা হয়।

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়ে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটি সহজে পৌঁছানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুত প্রতিবাদের পরিচিত ঠিকানায় পরিণত হয়।

২০১৮ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রায়ে জানায়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরপর থেকে যন্তর মন্তর আরও বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

এদিকে চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি পরোক্ষভাবে তাদের ‘তেলাপোকা’ ও সমাজের পরজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

গত ২০ জুলাই দলটির আহ্বানে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিজিৎ দিপকে নতুন কোনো সড়ক কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিদর্শন হিসেবে যাত্রা শুরু করা যন্তর মন্তর আজ যেন ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার আরেক নাম। তিন’ শ বছর পেরিয়েও ইতিহাসের এই স্থাপনাটি এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করে চলেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক তিন শতকের ‘যন্তর মন্তর’

প্রকাশের সময় : ০৫:১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

প্রায় তিনশো বছর আগে ১৭২৪ সালে নির্মিত হয়েছিল দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর। মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই মানমন্দির আজ ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অন্যতম আন্দোলনের প্রতীক। দিল্লিতে কোনো আন্দোলন বা গণসমাবেশের খবর এলেই যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেটি হলো ‘যন্তর মন্তর’।

সম্প্রতি নিট বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে এই স্থান। একইসঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অবস্থান কর্মসূচিও চলছে এখানেই। তবে প্রশ্ন হলো, কেন দিল্লির প্রতিবাদের কেন্দ্র হয়ে উঠল যন্তর মন্তর?

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশপাশে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে রাজধানীর প্রধান প্রতিবাদস্থল ছিল বোট ক্লাব এলাকা। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে বোট ক্লাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারণ করা হয়।

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি পড়ে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটি সহজে পৌঁছানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুত প্রতিবাদের পরিচিত ঠিকানায় পরিণত হয়।

২০১৮ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রায়ে জানায়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরপর থেকে যন্তর মন্তর আরও বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

এদিকে চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি পরোক্ষভাবে তাদের ‘তেলাপোকা’ ও সমাজের পরজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

গত ২০ জুলাই দলটির আহ্বানে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিজিৎ দিপকে নতুন কোনো সড়ক কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিদর্শন হিসেবে যাত্রা শুরু করা যন্তর মন্তর আজ যেন ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার আরেক নাম। তিন’ শ বছর পেরিয়েও ইতিহাসের এই স্থাপনাটি এখনও মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করে চলেছে।