ট্রল-অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ০৯:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 18
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করেছে, তারা কেউ পরীক্ষার্থী নয়। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ কিংবা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো শিক্ষার্থীকে আন্দোলন করতে দেখা যায়নি। এভাবে আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে আমরা এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করুক, যে যত অপবাদই দিক না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। শিক্ষা নিয়ে উসকানিমূলক ও উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে যারা সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায়, দেশের তরুণ প্রজন্মই তাদের ব্যর্থ করে দেবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শহরের বরুণকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। আজ তাঁরই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছি। তাহলে কীভাবে ভাবেন, আমাকে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই তা হবে না। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং শিক্ষার মানও উন্নত করতেই হবে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে মানবিক বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সমালোচনা করে বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা যেন বাংলাদেশে পড়তে আসে, সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সরকার সেই লক্ষ্যেই উচ্চশিক্ষাকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং অতীতের নানা অনিয়মের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৮৭ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাকে উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সেশনজট কমাতে ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং মার্চে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ।
এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
























