বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ
- প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / 12
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাত জন, রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুই জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়িতে কোনও আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছেন না বলে সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক।
দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৮৪৯ জন গৃহহীন মানুষ অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গত সাতটি জেলাসহ সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউ টিনসহ গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই সাথে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও বিশেষ আর্থিক সহায়তা (প্রতি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে) দেওয়া হয়েছে।





















