Dhaka ১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিশ্বকাপে হারের পর মেসির ছবি সরিয়ে দিল মিশরের জনপ্রিয় চিপস ব্র্যান্ড পরকীয়া প্রেমিকাসহ স্ত্রীর হাতে ধরা, পদ হারালেন জামায়াত নেতা অনলাইনে অস্ত্রের রমরমা বেচাকেনা, অর্ডার করলেই পৌঁছে যাচ্ছে হাতে ঝিনাইদহে চকলেটের প্রলোভনে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, আটক ১ নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর এক দিনের বৃষ্টিতেই বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, ভিজে নষ্ট আমদানিকৃত পণ্য যশোর আদালত চত্বরে প্রেমিকার সিঁথিতে সিঁদুর, পরে হাতাহাতি একসঙ্গে পদোন্নতি পেলেন ১০ ডিসি বদলগাছীতে ৭ মাদকসেবীর কারাদণ্ড ও জরিমানা বন্যা পরিস্থিতি : ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা

যে কৌশলে বিশ্বকাপে এখনো গোল হজম করেনি স্পেন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 17

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি স্পেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটি এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের দুর্দান্ত রক্ষণই প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে শেষ গোল হজম করার পর থেকে টানা ৬০৯ মিনিট প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি স্পেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের সাফল্যের মূল রহস্য শুধু শক্তিশালী রক্ষণ নয়, বরং প্রতিপক্ষকে নিজেদের বক্সে ঢোকার সুযোগই না দেওয়া। বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ থেকে দূরে রাখছে।

ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সদস্য ও আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার পাবলো জাবালেতা বলেন, স্পেনের খেলোয়াড়রা সব সময় একে অপরের কাছাকাছি অবস্থান করেন। ফলে বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই সবাই মিলে চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত আবার বলের দখল ফিরিয়ে নেন।

তিনি বলেন, স্পেনে ছোটবেলা থেকেই খেলোয়াড়দের শেখানো হয় বল হারানোর পরের কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলাই তাদের ফুটবল দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।

চলতি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যের প্রমাণ দিচ্ছে। প্রতিপক্ষের অর্ধে সবচেয়ে বেশি বল কেড়ে নিয়েছে স্পেন। এছাড়া স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ গড়ে মাত্র ১৯.৩ সেকেন্ড বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছে, যা টুর্নামেন্টে সর্বনিম্ন।

রক্ষণভাগে পাও কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। মাঝমাঠে নিজেদের লড়াইয়ের ৭৭.৪ শতাংশে জয় পেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে উঁচু এলাকায় চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের পাসের পথ বন্ধ করে দেওয়ার কৌশলও দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে স্পেন।

তবে এই কৌশল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও। দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডরা রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল সেই ঝুঁকি সফলভাবেই সামলে নিয়েছে।

আজ কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন। এখন দেখার বিষয়, চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে স্পেনের জালে বল জড়াতে পারে কি না বেলজিয়াম।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যে কৌশলে বিশ্বকাপে এখনো গোল হজম করেনি স্পেন

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি স্পেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটি এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের দুর্দান্ত রক্ষণই প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে শেষ গোল হজম করার পর থেকে টানা ৬০৯ মিনিট প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি স্পেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের সাফল্যের মূল রহস্য শুধু শক্তিশালী রক্ষণ নয়, বরং প্রতিপক্ষকে নিজেদের বক্সে ঢোকার সুযোগই না দেওয়া। বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ থেকে দূরে রাখছে।

ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সদস্য ও আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার পাবলো জাবালেতা বলেন, স্পেনের খেলোয়াড়রা সব সময় একে অপরের কাছাকাছি অবস্থান করেন। ফলে বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই সবাই মিলে চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত আবার বলের দখল ফিরিয়ে নেন।

তিনি বলেন, স্পেনে ছোটবেলা থেকেই খেলোয়াড়দের শেখানো হয় বল হারানোর পরের কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলাই তাদের ফুটবল দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।

চলতি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যের প্রমাণ দিচ্ছে। প্রতিপক্ষের অর্ধে সবচেয়ে বেশি বল কেড়ে নিয়েছে স্পেন। এছাড়া স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ গড়ে মাত্র ১৯.৩ সেকেন্ড বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছে, যা টুর্নামেন্টে সর্বনিম্ন।

রক্ষণভাগে পাও কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। মাঝমাঠে নিজেদের লড়াইয়ের ৭৭.৪ শতাংশে জয় পেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে উঁচু এলাকায় চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের পাসের পথ বন্ধ করে দেওয়ার কৌশলও দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে স্পেন।

তবে এই কৌশল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও। দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডরা রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল সেই ঝুঁকি সফলভাবেই সামলে নিয়েছে।

আজ কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন। এখন দেখার বিষয়, চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে স্পেনের জালে বল জড়াতে পারে কি না বেলজিয়াম।