Dhaka ১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় যৌথ অভিযানে প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার গলানো স্বর্ণ

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 28

নওগাঁ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের যৌথ দল। এ সময় গলানো অবস্থায় চোরাই স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর মডেল থানার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসিবুল্লাহ হাসিব এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর এলাকায় একই দিনে প্রতারণা ও রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার দুটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে এক ঘটনায় নওগাঁ শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় এক বৃদ্ধাকে অচেতন করে তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্য ঘটনায়, ঢাকার বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁদের ছয় আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি আবাসিক হোটেলে একযোগে অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী, বাবলু (তিনজনের বাড়ি গাইবান্ধা) এবং মো. কালাম (দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ)সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দ্বিতীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণের দুল নওগাঁ স্বর্ণপট্টির মুহিদ জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এর আগেও চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার অভিযোগ ছিল।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বাকি স্বর্ণালংকার ও অর্থ তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে। প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য এবং পলাতকদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় যৌথ অভিযানে প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার গলানো স্বর্ণ

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নওগাঁ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের যৌথ দল। এ সময় গলানো অবস্থায় চোরাই স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর মডেল থানার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসিবুল্লাহ হাসিব এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর এলাকায় একই দিনে প্রতারণা ও রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার দুটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে এক ঘটনায় নওগাঁ শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় এক বৃদ্ধাকে অচেতন করে তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্য ঘটনায়, ঢাকার বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁদের ছয় আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি আবাসিক হোটেলে একযোগে অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী, বাবলু (তিনজনের বাড়ি গাইবান্ধা) এবং মো. কালাম (দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ)সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দ্বিতীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণের দুল নওগাঁ স্বর্ণপট্টির মুহিদ জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এর আগেও চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার অভিযোগ ছিল।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বাকি স্বর্ণালংকার ও অর্থ তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে। প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য এবং পলাতকদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।