Dhaka ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

জবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 5

বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতিহাস বিকৃতি একটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় এবং অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর নানা ক্ষেত্রে এমন বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, “ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করতে হবে। আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। সমতল, পাহাড়, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেও তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবন ও শোষণবিরোধী দর্শন আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন গভীর মানবতাবোধসম্পন্ন একজন বিশ্বকবি। মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর সহমর্মিতা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তাধারা বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে কেন্দ্র করে যৌথ উৎসব আয়োজন একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের দেশপ্রেম ও মানবতাবোধের শিক্ষা দিয়েছেন, আর নজরুল শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. তাহমিনা আখতার বলেন, “সংগীতচর্চা কেবল শাস্ত্রীয় বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আবেদন সর্বস্তরের মানুষের কাছে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুজনেই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. সাবিনা শরমীন এবং ড. মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. ঝুমুর আহমেদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোঃ মাহমুদুর রহমান।

গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান-কে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম, শামা রহমান এবং জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া ‘শ্যামল সুন্দর’ পরিবেশন করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ এবং ‘নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা’ যৌথভাবে পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ, ধৃতি নর্তনালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত হবে ‘নজরুল পর্ব’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ববি হাজ্জাজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতিহাস বিকৃতি একটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় এবং অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর নানা ক্ষেত্রে এমন বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, “ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করতে হবে। আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। সমতল, পাহাড়, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেও তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবন ও শোষণবিরোধী দর্শন আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন গভীর মানবতাবোধসম্পন্ন একজন বিশ্বকবি। মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর সহমর্মিতা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তাধারা বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে কেন্দ্র করে যৌথ উৎসব আয়োজন একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের দেশপ্রেম ও মানবতাবোধের শিক্ষা দিয়েছেন, আর নজরুল শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. তাহমিনা আখতার বলেন, “সংগীতচর্চা কেবল শাস্ত্রীয় বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আবেদন সর্বস্তরের মানুষের কাছে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুজনেই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. সাবিনা শরমীন এবং ড. মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. ঝুমুর আহমেদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোঃ মাহমুদুর রহমান।

গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান-কে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম, শামা রহমান এবং জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া ‘শ্যামল সুন্দর’ পরিবেশন করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ এবং ‘নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা’ যৌথভাবে পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ, ধৃতি নর্তনালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত হবে ‘নজরুল পর্ব’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ববি হাজ্জাজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ।