প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে উধাও ‘জিনের বাদশা’!
- প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 13
ভোলায় ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ নিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নকিব কসাই নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাইবার নির্যাতন, প্রতারণা ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদি প্রবাসী নুরে আলম।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকটাত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।
লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম বলেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
তার অভিযোগ, নকিব কসাই কৌশলে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জনের পর প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাসন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দেন।
নুরে আলম দাবি করেন, তার সঙ্গে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি নারী ও শিশু নির্যাতনের পাশাপাশি সাইবার অপরাধের শামিল। এ ঘটনায় পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নুরে আলম বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাওয়ায় নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
একজন প্রবাসী হিসেবে নুরে আলম প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেফতার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



















