বালিয়াকান্দির রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা ও সংবর্ধনা
- প্রকাশের সময় : ০৮:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 7
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পরিচিতি সভা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মোল্লার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা (আরজু)-এর পরিচিতি তুলে ধরা হয়। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান। এছাড়া অভিভাবক প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, শিক্ষক প্রতিনিধি গোবিন্দ ভদ্রসহ অন্যান্য সদস্যদেরও উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মুহাম্মদ রোকন মিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, মোঃ হাফিজুর রহমান এবং নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা (আরজু)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ফারুক হোসেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কাওছার কবির। এছাড়াও বক্তব্য দেন আজমির হোসেন খান, হাফিজুর রহমান মাস্টার, সাবেক শিক্ষক আব্দুস সাত্তার মাস্টার, আব্দুর রাজ্জাক ও মনিরুল ইসলাম মিল্টন।
বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম ও গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় নবগঠিত সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা (আরজু) বলেন, “দীর্ঘ সময় আগে আমাদের পরিবার থেকেই রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একসময় প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার মান কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। সেই অবস্থার উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের নিয়মিত ও আন্তরিক পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব। এছাড়া আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পোশাক স্কুল ড্রেস তৈরি করতে পারছে না, তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “এমন ৫০ জন শিক্ষার্থীর তালিকা দিলে আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নে তাদের স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করব।”
অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিমত ব্যক্ত করেন।























