Dhaka ১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পাংশায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ২ কর্মদিবসে মিলবে মার্কিন অভিবাসী ভিসা বিসিবি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে আইসিসির প্রতিনিধি দল ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত-ব্যাংক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থা জানাল হোয়াইট হাউস ভারতে মারা গেলেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলায় সমালোচনায় ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক কোটালীপাড়ায় বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ চামড়া শিল্পকে পরিপক্ক রফতানিমুখী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রজনন মৌসুমে তিন মাস বন্ধ থাকছে সুন্দরবন, খোলা থাকবে শুধু করমজল

প্রজনন মৌসুমে তিন মাস বন্ধ থাকছে সুন্দরবন, খোলা থাকবে শুধু করমজল

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / 6

বন্যপ্রাণী, মাছ ও বনজ উদ্ভিদের প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। এ সময় সুন্দরবনের অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ থাকবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে খোলা রাখা হবে করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র।

বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টি সুন্দরবনের প্রাণী, পাখি, মাছ ও বিভিন্ন উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে বন্যপ্রাণীরা ডিম পাড়ে ও বাচ্চা জন্ম দেয়। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজ থেকে নতুন চারা গজায় এবং নানা প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নৌযানের শব্দ, পর্যটকদের কোলাহল এবং জেলে-বাওয়ালি-মৌয়ালদের চলাচলের কারণে প্রজনন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া জালের ব্যবহার ও মানুষের আনাগোনায় মাছের প্রজনন এবং নবজাত চারা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর এ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। বন বিভাগ মনে করছে, এ সময় বনকে নির্বিঘ্নে থাকতে দিলে বন্যপ্রাণী, মাছ ও বনজ সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে বননির্ভর জনগোষ্ঠী।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। এ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বনাঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নজরদারির জন্য ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, করমজল মোংলার লোকালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে পর্যটকদের উপস্থিতি বনের অভ্যন্তরের প্রজনন কার্যক্রমে তেমন প্রভাব ফেলে না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বছর শুধু করমজল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বনের অভ্যন্তরের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদেরও বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে বন বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে বন ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন হয় এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হয়। তবে এবার দর্শনার্থীদের জন্য শুধু করমজল পর্যটন কেন্দ্র খোলা থাকবে, বাকি সব কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।”

বন বিভাগ আশা করছে, তিন মাসের এই সংরক্ষণ কার্যক্রম সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রজনন মৌসুমে তিন মাস বন্ধ থাকছে সুন্দরবন, খোলা থাকবে শুধু করমজল

প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বন্যপ্রাণী, মাছ ও বনজ উদ্ভিদের প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। এ সময় সুন্দরবনের অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ থাকবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে খোলা রাখা হবে করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র।

বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টি সুন্দরবনের প্রাণী, পাখি, মাছ ও বিভিন্ন উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে বন্যপ্রাণীরা ডিম পাড়ে ও বাচ্চা জন্ম দেয়। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজ থেকে নতুন চারা গজায় এবং নানা প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নৌযানের শব্দ, পর্যটকদের কোলাহল এবং জেলে-বাওয়ালি-মৌয়ালদের চলাচলের কারণে প্রজনন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া জালের ব্যবহার ও মানুষের আনাগোনায় মাছের প্রজনন এবং নবজাত চারা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর এ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। বন বিভাগ মনে করছে, এ সময় বনকে নির্বিঘ্নে থাকতে দিলে বন্যপ্রাণী, মাছ ও বনজ সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে বননির্ভর জনগোষ্ঠী।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। এ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বনাঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নজরদারির জন্য ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, করমজল মোংলার লোকালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে পর্যটকদের উপস্থিতি বনের অভ্যন্তরের প্রজনন কার্যক্রমে তেমন প্রভাব ফেলে না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বছর শুধু করমজল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বনের অভ্যন্তরের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদেরও বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে বন বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে বন ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন হয় এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হয়। তবে এবার দর্শনার্থীদের জন্য শুধু করমজল পর্যটন কেন্দ্র খোলা থাকবে, বাকি সব কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।”

বন বিভাগ আশা করছে, তিন মাসের এই সংরক্ষণ কার্যক্রম সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।