Dhaka ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় কারাভোগের পর মানসিক হাসপাতালে সেই ইমাম

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / 13

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা নিজের ফেসবুক পোস্টে মোজাফফরের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানান।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় মোজাফফর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং দেয়ালে মাথা ঠুকে আহত হন। তবে পরে জানা যায়, তিনি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তির পর এক রাতে মোজাফফরকে তার ছোট ভাই ইমনের বাসায় রাখা হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছু সময় পর তিনি আচমকা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ইমন ও ইফতি নামে দুজনকে মারধর ও কামড়ে আহত করেন। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দার বাসায় ঢুকে হামলার চেষ্টাও করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারেক রেজা। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় মোজাফফরকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ইনজেকশন দেওয়া হলে কিছু সময় পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

তারেক রেজা আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনগত অভিভাবকের জটিলতার কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা পৌঁছালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশাল-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক মোজাফফরকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মোজাফফর আহমদ ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় এক কিশোরীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় তিনি ৩২ দিন কারাগারে ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় কারাভোগের পর মানসিক হাসপাতালে সেই ইমাম

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা নিজের ফেসবুক পোস্টে মোজাফফরের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানান।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় মোজাফফর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং দেয়ালে মাথা ঠুকে আহত হন। তবে পরে জানা যায়, তিনি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তির পর এক রাতে মোজাফফরকে তার ছোট ভাই ইমনের বাসায় রাখা হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছু সময় পর তিনি আচমকা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ইমন ও ইফতি নামে দুজনকে মারধর ও কামড়ে আহত করেন। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দার বাসায় ঢুকে হামলার চেষ্টাও করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারেক রেজা। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় মোজাফফরকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ইনজেকশন দেওয়া হলে কিছু সময় পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

তারেক রেজা আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনগত অভিভাবকের জটিলতার কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা পৌঁছালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশাল-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক মোজাফফরকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মোজাফফর আহমদ ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় এক কিশোরীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় তিনি ৩২ দিন কারাগারে ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।