Dhaka ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে দেশ স্বাধীন হতো না, তিনি স্বাধীনতার স্থপতি: আসিফ নজরুল ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ নওগাঁর ধামইরহাট থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার বিএনপি ৩১ দফা দেয়, পূরণ করে ৩২ দফা পর্যন্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নওগাঁয় খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ঝিনাইদহে নিখোঁজের তিনদিন পর নদী থেকে রমজানের মরদেহ উদ্ধার দেশমাতার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী কোটালীপাড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির আলোচনা ও দোয়া ভারত-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে : দীনেশ ত্রিবেদী ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যুবক আটক

ফরিদপুরে টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভনে কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 119

ফরিদপুরে এক কিশোরীকে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুটি ধারায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আদল কাজীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই আইনের ১১ ধারায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। সেখানে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদল কাজী সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এনে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন।

তবে মামলার অপর আসামি সুমনের সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয় এবং আদল কাজীর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফরিদপুরে টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভনে কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রি

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ফরিদপুরে এক কিশোরীকে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুটি ধারায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আদল কাজীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই আইনের ১১ ধারায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। সেখানে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদল কাজী সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এনে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন।

তবে মামলার অপর আসামি সুমনের সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয় এবং আদল কাজীর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।