পড়া না পারায় বেত্রাঘাতে আহত ছাত্র হাসপাতালে, শিক্ষক অবরুদ্ধ
- প্রকাশের সময় : ০২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 27
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পড়া না পারার কারণে এক শিক্ষার্থীর ওপর বেত্রাঘাতের ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ছাত্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করে রাখে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো: তাছিন মুন্সী (১৩)। সে উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো: সবুজ মুন্সীর ছেলে এবং বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। আহত অবস্থায় তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ক্লাস চলাকালীন সময়ে পড়া না পারার কারণে শিক্ষক মো: আহাদ হোসেন শিক্ষার্থী তাছিনকে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন। পরে তাকে ক্লাসরুমের ফ্লোরে ফেলে লাথি মারার অভিযোগও ওঠে। এতে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে আটকে রাখে কর্তৃপক্ষ।
আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মো: সিয়াম মিয়া জানান, সাধারণত পড়া না পারলে শিক্ষকরা দুই-একটি বেত্রাঘাত করেন। তবে তাছিনকে অস্বাভাবিকভাবে বেশি মারধর করা হয়। তার কথায়, পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের ওপর উঠিয়ে মারধর করেন, এমনকি ফ্লোরে ফেলে লাথিও মারেন। বাধা দিতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরাও মারধরের শিকার হন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আহাদ হোসেন বলেন, পড়া না পারার কারণে তিনি শিক্ষার্থীকে শাসন করেছিলেন। তবে শিক্ষার্থীর অশালীন আচরণ ও গালাগালির কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে স্বীকার করেন। তিনি ঘটনার জন্য অনুতপ্ত বলেও জানান।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো: সবুজ মুন্সী বলেন, ছেলের শরীরে একাধিক বেত্রাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অনেক জায়গা থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন এবং বলেন, তার ছেলের অপরাধ কতটা গুরুতর ছিল যে এত কঠোর শাস্তি দেওয়া হলো, তা তিনি জানতে চান।
এদিকে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো: শাজাহান মন্ডল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত বিদ্যালয়ে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।
বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল খালেক বলেন, যেকোনো কারণেই হোক একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে শারীরিক শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।




















