Dhaka ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর উত্থানের গল্প কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন পুলিশকে প্রযুক্তি নির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাজে বোলিংয়ে হতাশায় দিন শেষ করল বাংলাদেশ জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি আসামে পরপর দুইবার ভূমিকম্প, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও অনুভূত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ, ২ শতাংশ জমা দিলেই নিয়মিত হবে খেলাপি ঋণ হান্টা ভাইরাস কী, মহামারির আশঙ্কা কতটা? লাইফ সাপোর্টে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 9

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর প্রবাসী মুরাদ শেখের মরদেহ ১৬ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে প্রথম দেখল তার শিশু সন্তান, তবে সেটিও কফিনবন্দি অবস্থায়। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মুরাদ শেখ (৩৬) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার মরদেহ। পরে সকাল ৯টায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বেলা ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুরাদ সৌদি আরবে যায়। ছেলের জন্মের খবর শুনে খুব খুশি হয়েছিল। বলেছিল দ্রুত দেশে ফিরে ছেলেকে কোলে নেবে। কিন্তু সে ফিরলো কফিনবন্দি হয়ে। জন্মের পর ছেলেকে একবারও কোলে নিতে পারেনি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুরাদের পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ১০ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। ছেলেটি জন্মের আগেই সৌদি আরবে পাড়ি জমান মুরাদ।

মুরাদের বড় মেয়ে মাইশা খাতুন জানায়, দুর্ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। “বাবা বলেছিল পরে আবার কথা বলবে। কিন্তু সেই কথা আর হয়নি,” বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়েছে। কীভাবে তাদের সংসার চলবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি

প্রকাশের সময় : ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর প্রবাসী মুরাদ শেখের মরদেহ ১৬ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে প্রথম দেখল তার শিশু সন্তান, তবে সেটিও কফিনবন্দি অবস্থায়। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মুরাদ শেখ (৩৬) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার মরদেহ। পরে সকাল ৯টায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বেলা ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুরাদ সৌদি আরবে যায়। ছেলের জন্মের খবর শুনে খুব খুশি হয়েছিল। বলেছিল দ্রুত দেশে ফিরে ছেলেকে কোলে নেবে। কিন্তু সে ফিরলো কফিনবন্দি হয়ে। জন্মের পর ছেলেকে একবারও কোলে নিতে পারেনি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুরাদের পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ১০ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। ছেলেটি জন্মের আগেই সৌদি আরবে পাড়ি জমান মুরাদ।

মুরাদের বড় মেয়ে মাইশা খাতুন জানায়, দুর্ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। “বাবা বলেছিল পরে আবার কথা বলবে। কিন্তু সেই কথা আর হয়নি,” বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়েছে। কীভাবে তাদের সংসার চলবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।