Dhaka ১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাশেদ খানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গান, প্রতিবাদ করায় যুবনেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ স্বাক্ষর জাল করে স্কুল পালানো, ব্যতিক্রমী শাস্তি দিলেন ইউএনও জিগাতলায় দুই ভবনে মশার লার্ভা, লাখ টাকা জরিমানা বেসরকারি মেডিকেলে এমবিবিএসে মেধাবীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাশিয়ার বুকে ডাইনোসরের পদচিহ্ন, রহস্য খুঁজছে বিজ্ঞানীরা কালুখালীতে অবৈধ জাল তৈরির কারখানায় অভিযান, সাড়ে ৬ লাখ টাকার জাল জব্দ ভেনেজুয়েলার পাশে বিশ্বনেতারা, সহায়তার ঘোষণা বিভিন্ন দেশের বিদায় নিশ্চিত তিউনিসিয়ার, গ্রুপ সেরা মিশনে নেদারল্যান্ডস চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: রিজভী যশোরের শার্শায় বজ্রপাতে বিজিবি সদস্য আহত

রাস্তার জন্য যে গ্রামে বিয়ে করতে চায় না কেউ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 80

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামে পৌঁছায়নি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। একটি সেতু ও কাঁচা সড়কের অভাবে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামটির সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক গড়তেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

গ্রামবাসীরা জানান, প্রধান সড়কের মাঝখানে একটি খাল থাকলেও সেখানে কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।

সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় ডুবে যায় কাঁচা সড়ক। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়, অনেক সময় বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা যায় না। অনেক সময় পড়ে গিয়ে মানুষ আহত হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হলে বড় বিপদে পড়তে হয়।’

আরেক বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘যাতায়াতের কষ্টের কারণে এই গ্রামের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক করতে চায় না কেউ। অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েও পরে সরে যায়।’

যানবাহন চলাচল করতে না পারায় গ্রামবাসীর ভরসা হাঁটা বা ঘোড়ার গাড়ি। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সড়ক ও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

নাগরপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব জানান, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কবে নাগাদ সেতু ও সড়ক নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে চাঁনপাড়ার বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাস্তার জন্য যে গ্রামে বিয়ে করতে চায় না কেউ

প্রকাশের সময় : ০৭:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামে পৌঁছায়নি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। একটি সেতু ও কাঁচা সড়কের অভাবে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামটির সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক গড়তেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

গ্রামবাসীরা জানান, প্রধান সড়কের মাঝখানে একটি খাল থাকলেও সেখানে কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।

সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় ডুবে যায় কাঁচা সড়ক। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়, অনেক সময় বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা যায় না। অনেক সময় পড়ে গিয়ে মানুষ আহত হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হলে বড় বিপদে পড়তে হয়।’

আরেক বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘যাতায়াতের কষ্টের কারণে এই গ্রামের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক করতে চায় না কেউ। অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েও পরে সরে যায়।’

যানবাহন চলাচল করতে না পারায় গ্রামবাসীর ভরসা হাঁটা বা ঘোড়ার গাড়ি। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সড়ক ও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

নাগরপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব জানান, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কবে নাগাদ সেতু ও সড়ক নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে চাঁনপাড়ার বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।