Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু : আইনমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার’ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু বাংলাদেশিদের শ্রম ভিসা সাময়িক বন্ধ করল লাওস ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিই যেন না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

স্বাক্ষর জাল করে স্কুল পালানো, ব্যতিক্রমী শাস্তি দিলেন ইউএনও

একে আজাদ, পাংশা
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 134

 

রাজবাড়ীর পাংশায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুরপাড়ে আড্ডা দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাতে ধরা পড়েছে চার শিক্ষার্থী। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিদ্যালয় থেকে বের হতে তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ছুটির আবেদনপত্র তৈরি করেছিল।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ব্যতিক্রমধর্মী শর্তে তাদের ক্ষমা করে দেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ইউএনও উপজেলা পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরঘাট এলাকায় স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত চার শিক্ষার্থীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নিজেদের পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয় এবং টিফিনের ছুটিতে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে বলে দাবি করে।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তাদের কাউকেই কোনো ধরনের ছুটি দেওয়া হয়নি।

পরে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে যে, তারা এক সহপাঠীর আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় থেকে পালিয়েছিল। পথে তারা পুকুরে গোসল করতে নামে।

বিকেলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আরও স্বীকার করে যে, তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ছুটির আবেদনপত্র তৈরি করেছিল এবং তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে বেরিয়ে আসে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, “উপজেলা পরিষদের পুকুরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে এখানে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে সেখানে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করা, বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আটক চার শিক্ষার্থীই আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শাস্তিমূলক নয়, শিক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুরোধে তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করে ক্ষমা করা হয়েছে।”

শর্ত হিসেবে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে ২০০টি করে, অর্থাৎ চারজন মিলে মোট ৮০০টি গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষণীয় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

স্বাক্ষর জাল করে স্কুল পালানো, ব্যতিক্রমী শাস্তি দিলেন ইউএনও

প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

 

রাজবাড়ীর পাংশায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুরপাড়ে আড্ডা দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাতে ধরা পড়েছে চার শিক্ষার্থী। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিদ্যালয় থেকে বের হতে তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ছুটির আবেদনপত্র তৈরি করেছিল।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ব্যতিক্রমধর্মী শর্তে তাদের ক্ষমা করে দেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ইউএনও উপজেলা পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরঘাট এলাকায় স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত চার শিক্ষার্থীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নিজেদের পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয় এবং টিফিনের ছুটিতে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে বলে দাবি করে।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তাদের কাউকেই কোনো ধরনের ছুটি দেওয়া হয়নি।

পরে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে যে, তারা এক সহপাঠীর আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় থেকে পালিয়েছিল। পথে তারা পুকুরে গোসল করতে নামে।

বিকেলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আরও স্বীকার করে যে, তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ছুটির আবেদনপত্র তৈরি করেছিল এবং তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে বেরিয়ে আসে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, “উপজেলা পরিষদের পুকুরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে এখানে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে সেখানে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করা, বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আটক চার শিক্ষার্থীই আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শাস্তিমূলক নয়, শিক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুরোধে তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করে ক্ষমা করা হয়েছে।”

শর্ত হিসেবে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে ২০০টি করে, অর্থাৎ চারজন মিলে মোট ৮০০টি গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষণীয় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহল।