Dhaka ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে অঙ্গীকার হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৫৪ ‘পুশইন’ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বিজিবিকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাল নোট কারবারিরা গোয়েন্দা নজরদারিতে : ডিএমপি কমিশনার টিকটকের ফাঁদে স্কুলছাত্রকে হোটেলে নিয়ে বলাৎকার কালুখালীতে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ, ‘ধলতা’ বিরোধে কৃষকদের বিক্ষোভ মিছিল অন্যান্য দেশের তুলনায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে: মাহদী আমিন বৃহস্পতিবার ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফুয়েল পাস রেজিস্ট্রেশন কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এমপির কড়া হুঁশিয়ারি এবার বাড়লো সোনার দাম

অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তা দিলেন আসামি, গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 10

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের একাধিক অভিযানের পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যেই অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান জানান, একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে জেলা হাসপাতালেও পরীক্ষার মাধ্যমে একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং তা এখনও চলছে। শিগগিরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৫ মিনিটের একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, কষ্ট করে মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়াতে দিয়েছিলেন, কিন্তু এ ধরনের ঘটনার কথা কখনো ভাবেননি। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারকেও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে তারা সাইবার বুলিং ও হুমকির শিকার হচ্ছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করে পুষ্টিকর খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির শারীরিক ও মানসিক সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামি পরিবারসহ পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তা দিলেন আসামি, গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ

প্রকাশের সময় : ০৫:২১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের একাধিক অভিযানের পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যেই অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান জানান, একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে জেলা হাসপাতালেও পরীক্ষার মাধ্যমে একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং তা এখনও চলছে। শিগগিরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৫ মিনিটের একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, কষ্ট করে মেয়েকে মাদ্রাসায় পড়াতে দিয়েছিলেন, কিন্তু এ ধরনের ঘটনার কথা কখনো ভাবেননি। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারকেও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে তারা সাইবার বুলিং ও হুমকির শিকার হচ্ছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করে পুষ্টিকর খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির শারীরিক ও মানসিক সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামি পরিবারসহ পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।