Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসা পরিচালকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের শিশু

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:২০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 86

নিরাপদ আশ্রয়ে দেয়া শিশুকে বিপদের মুখে ফেলে দিলো শিক্ষকই। ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এখন জীবনমরণ সন্ধিক্ষণে। নেত্রকোনার মদনের একটি মাদ্রাসার পরিচালকের লালসার শিকার হয়েছে ওই শিশু। থানায় মামলা হলেও পালিয়ে যাওয়া মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ সাগর ধরাছোাঁয়র বাইরে। মীমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তের স্বজনরা। অবশেষে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ঘটনা ধরা পড়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

সরেজমনি ঘুরে জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের সুতিয়ারপাড় পাঁচার গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাবা দেখাশোনা না করায় এবং আলাদা থাকায় মা জীবিকার তাগিদে সিলেট গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। কাজের জন্য একমাত্র ১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে বাবার বাড়ি রেখে যান। অস্বচ্ছল পরিবারে শিশুর পড়ালেখার সুযোগ নেই। ২০২২ সালে বাড়ির পাশে গড়ে ওঠা হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় ধর্মীয়সহ স্বাক্ষর জ্ঞান অর্জন করতে পাঠায়। কিন্তু এই জ্ঞান অর্জনই কাল হয়েছে শিশুটির। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর অসহায় পরিবারের শিশুটির সাথে পৈশাচিক আচরণ করে। ধর্ষণ করে ভয়ভীতি দেখায়। এভাবে একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটালে এক পর্যায়ে শিশুটির খারাপ লাগতে থাকে। পেট ভারি ভারি লাগে। মায়ের কাছে সিলেট চলে যায় সে। মা বিভিন্ন জায়গায় গেলে চিকিৎসকের কাছে পাঠায়। পরে ময়মনসিংহরে গাইনোকলজিস্ট ও নগর মাতৃসদনের ডা. সায়মা আক্তারের কাছে গেলে ওই চিকিৎসকের মাথায় আসমান ভেঙ্গে পড়ে। শিশুটির ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই পেটে সন্তান চলে এসছে। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে। এক পর্যায়ে ওই মাদ্রাসার পরিচালক অভিযুক্ত সাগর ও একই মাদ্রসার প্রধান শিক্ষক স্ত্রীকে নিয়ে গত ১৮ এপ্রিল পালিয়ে যান।

এদিকে ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও মীমাংসাকারীকে আসামি করে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু নানা ভাবে ওই দরিদ্র পরিবারকে চাপসহ প্রভাব খাটানোর কারণে আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসীও কিছু বলতে চান না এই বিষয়ে। তবে দু-একজন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

সোমবার মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আসেন। নিরাপত্তার পাশাপাশি আসামি ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাদ্রাসা পরিচালকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের শিশু

প্রকাশের সময় : ১০:২০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নিরাপদ আশ্রয়ে দেয়া শিশুকে বিপদের মুখে ফেলে দিলো শিক্ষকই। ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এখন জীবনমরণ সন্ধিক্ষণে। নেত্রকোনার মদনের একটি মাদ্রাসার পরিচালকের লালসার শিকার হয়েছে ওই শিশু। থানায় মামলা হলেও পালিয়ে যাওয়া মাদ্রাসা পরিচালক আমানউল্লাহ সাগর ধরাছোাঁয়র বাইরে। মীমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তের স্বজনরা। অবশেষে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ঘটনা ধরা পড়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

সরেজমনি ঘুরে জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের সুতিয়ারপাড় পাঁচার গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাবা দেখাশোনা না করায় এবং আলাদা থাকায় মা জীবিকার তাগিদে সিলেট গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। কাজের জন্য একমাত্র ১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে বাবার বাড়ি রেখে যান। অস্বচ্ছল পরিবারে শিশুর পড়ালেখার সুযোগ নেই। ২০২২ সালে বাড়ির পাশে গড়ে ওঠা হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় ধর্মীয়সহ স্বাক্ষর জ্ঞান অর্জন করতে পাঠায়। কিন্তু এই জ্ঞান অর্জনই কাল হয়েছে শিশুটির। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর অসহায় পরিবারের শিশুটির সাথে পৈশাচিক আচরণ করে। ধর্ষণ করে ভয়ভীতি দেখায়। এভাবে একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটালে এক পর্যায়ে শিশুটির খারাপ লাগতে থাকে। পেট ভারি ভারি লাগে। মায়ের কাছে সিলেট চলে যায় সে। মা বিভিন্ন জায়গায় গেলে চিকিৎসকের কাছে পাঠায়। পরে ময়মনসিংহরে গাইনোকলজিস্ট ও নগর মাতৃসদনের ডা. সায়মা আক্তারের কাছে গেলে ওই চিকিৎসকের মাথায় আসমান ভেঙ্গে পড়ে। শিশুটির ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই পেটে সন্তান চলে এসছে। এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে। এক পর্যায়ে ওই মাদ্রাসার পরিচালক অভিযুক্ত সাগর ও একই মাদ্রসার প্রধান শিক্ষক স্ত্রীকে নিয়ে গত ১৮ এপ্রিল পালিয়ে যান।

এদিকে ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও মীমাংসাকারীকে আসামি করে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু নানা ভাবে ওই দরিদ্র পরিবারকে চাপসহ প্রভাব খাটানোর কারণে আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসীও কিছু বলতে চান না এই বিষয়ে। তবে দু-একজন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

সোমবার মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আসেন। নিরাপত্তার পাশাপাশি আসামি ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।