Dhaka ০৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ নিয়ে তাপস বৈশ্যর বিস্ফোরক মন্তব্য

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়েই বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন তামিম ইকবাল। যার মধ্যে সাবেক অধিনায়কদের সম্মানে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগটি ছিল অন্যতম। তবে সাবেক অধিনায়কদের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক টাইগার পেসার তাপস বৈশ্য। একে অন্য সাবেক ক্রিকেটারদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তার দৃষ্টিতে ‘দীর্ঘদিনের অসমতার সংস্কৃতি’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাপস। তিনি দাবি করেছেন যে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির এই পদক্ষেপ অধিনায়ক ও অন্য ক্রিকেটারদের মধ্যকার বিভেদকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে তাপস লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য!! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স থাকত, আর জাতীয় দলের অন্য সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি!! আর এখন তো কার্ড!!’

অধিনায়কদের প্রতি বিসিবির এই বিশেষ পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাবেক এই পেসারের মতে, এটি ক্রিকেটের দলীয় সংহতিকে নষ্ট করে। তার ভাষ্য, ‘অধিনায়করা রাজা আর বাকিরা প্রজা!! অধিনায়ক হলেই তুমি “চৌধুরী” আর অন্য সতীর্থরা? খেলা তো সকলেই মিলে- ১১ বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়াড়!!’

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে এই ব্যবস্থার অসারতা তুলে ধরেছেন তাপস, ‘রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় কয়জন খেলোয়াড় বা অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে…’ স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধাগুলো কেন কেবল অধিনায়কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘অধিনায়কদের হেলথ ইন্সুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের?’

শুধু নিজে প্রতিবাদ জানিয়েই থেমে থাকতে রাজি নন তাপস। বরং অন্যদেরও প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাপস বৈশ্য বলেন, ‘কারও যদি আত্মসম্মান তাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার “চৌধুরী” হয়েছে।’

সাবেক এই ডানহাতি বোলারের মতে, এই উদ্যোগ তাকে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিতেও কুণ্ঠিত করছে, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য।’

বোর্ডের শীর্ষ অর্থাৎ সভাপতি পদে সাবেক ক্রিকেটারদের আসীন হওয়া নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাপস উপসংহার টেনেছেন, ‘আমি চাই আর যেন কখনও কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ নিয়ে তাপস বৈশ্যর বিস্ফোরক মন্তব্য

প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়েই বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন তামিম ইকবাল। যার মধ্যে সাবেক অধিনায়কদের সম্মানে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগটি ছিল অন্যতম। তবে সাবেক অধিনায়কদের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক টাইগার পেসার তাপস বৈশ্য। একে অন্য সাবেক ক্রিকেটারদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তার দৃষ্টিতে ‘দীর্ঘদিনের অসমতার সংস্কৃতি’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাপস। তিনি দাবি করেছেন যে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির এই পদক্ষেপ অধিনায়ক ও অন্য ক্রিকেটারদের মধ্যকার বিভেদকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে তাপস লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য!! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স থাকত, আর জাতীয় দলের অন্য সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি!! আর এখন তো কার্ড!!’

অধিনায়কদের প্রতি বিসিবির এই বিশেষ পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাবেক এই পেসারের মতে, এটি ক্রিকেটের দলীয় সংহতিকে নষ্ট করে। তার ভাষ্য, ‘অধিনায়করা রাজা আর বাকিরা প্রজা!! অধিনায়ক হলেই তুমি “চৌধুরী” আর অন্য সতীর্থরা? খেলা তো সকলেই মিলে- ১১ বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়াড়!!’

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে এই ব্যবস্থার অসারতা তুলে ধরেছেন তাপস, ‘রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় কয়জন খেলোয়াড় বা অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে…’ স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধাগুলো কেন কেবল অধিনায়কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘অধিনায়কদের হেলথ ইন্সুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের?’

শুধু নিজে প্রতিবাদ জানিয়েই থেমে থাকতে রাজি নন তাপস। বরং অন্যদেরও প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাপস বৈশ্য বলেন, ‘কারও যদি আত্মসম্মান তাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার “চৌধুরী” হয়েছে।’

সাবেক এই ডানহাতি বোলারের মতে, এই উদ্যোগ তাকে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিতেও কুণ্ঠিত করছে, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য।’

বোর্ডের শীর্ষ অর্থাৎ সভাপতি পদে সাবেক ক্রিকেটারদের আসীন হওয়া নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাপস উপসংহার টেনেছেন, ‘আমি চাই আর যেন কখনও কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’