পাবনায় জেল-জরিমানাতেও থামছেন না ‘নকল দুধের কারখানা’, চলছে উৎপাদন
- প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 9
বারবার জেল-জরিমানা, তবুও থামছে না পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে নকল দুধ তৈরির মহোৎসব। সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার শিংগাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির অপরাধে ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল ও নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর একই অপরাধে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই দণ্ডকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি পুনরায় কারখানা খুলে দেদারছে এই বিষাক্ত কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফারুকের কারখানায় হানা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। অভিযানে হাতে-নাতে নকল দুধ তৈরির নিষিদ্ধ সরঞ্জাম পাওয়া যায়। এসময় কারখানা থেকে ২০০ লিটার ক্ষতিকর গ্লুকোজ জেলি জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধের কারবার শুধু ফারুক হোসেনেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চরভাঙ্গুড়া গ্রামের সঞ্জয় কুমার এবং কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশার একাধিকবার জেল-জরিমানা ভোগ করার পরও এখনো বীরদর্পে নকল দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছেন। অসাধু এই সিন্ডিকেট উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চিলিং সেন্টারের আড়ালে সারা রাত ধরে এই অপকর্ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ খামারিদের।
ভাঙ্গুড়া বাজারের দুগ্ধ খামারি আমিরুল ইসলাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত খামারিরা সকালে ও সন্ধ্যায় দুধ সরবরাহ করেন। কিন্তু এখন বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সারা রাত ধরে বিপুল পরিমাণ দুধ আসছে, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এসব সেন্টারে কঠোর নজরদারি না বাড়ালে নকল দুধের বিষ রোধ করা সম্ভব হবে না।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা ২০০ লিটার ক্ষতিকর জেলি ধ্বংস করেছি।জনস্বার্থ রক্ষায় এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এই ধরণের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া এবং নকল দুধের এমন বারবার পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কেবল জরিমানা নয়, এই অসাধু চক্রকে নির্মূল করতে স্থায়ী আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আরো জানান, এই নকল দুধ কারবারিদের একটি সমিতি আছে, সেই সমিতির আড়ালে চলে এসব। প্রসাশন একটু তৎপর হলেই এটা নির্মূল করা সম্ভব।




















