পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু
- প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 2
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে পাঁচজন, রংপুরে দুইজন, হবিগঞ্জে একজন, নেত্রকোণায় একজন এবং ময়মনসিংহে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সুনামগঞ্জ, রংপুর, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের পাঠানো সংবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সুনামগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যু, আহত ৩
সুনামগঞ্জের একাধিক উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। হাওরে ধান কাটা ও হাঁস চরানোর সময় পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে ধান কাটার সময় বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হবিবুর রহমানসহ (২২) দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় নূর জামাল নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
অন্যদিকে, তাহিরপুর উপজেলায় হাঁস চরানোর সময় আবুল কালাম এবং দিরাই উপজেলার চরনাচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামে হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
রংপুরে দু’জনের মৃত্যু, আহত ৭
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন দগ্ধ হন এবং অনেকে জ্ঞান হারান।
হবিগঞ্জে এক কৃষকের মৃত্যু
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার তাগিদে হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহে তিনজনের মৃত্যু
এদিকে, নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার ধলার হাওরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দু’জন নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই কালবৈশাখী মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যায়, বিশেষ করে খোলা হাওর বা মাঠে কাজ করার সময় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। সংশ্লিষ্টরা এ সময় অপ্রয়োজনে খোলা স্থানে না যাওয়ার জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।



















