Dhaka ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

জ্বালানি সংকটে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ, দিশেহারা কৃষক

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 92

 

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা-র প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, সেচের পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে পাম্পে গিয়েও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না।

কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল পাচ্ছেন, যা দিয়ে এক বেলার সেচ কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি যাতায়াত ব্যয় বেড়ে চাষাবাদের খরচও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

এক সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৃষকরা বাকিতে ডিজেল নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতিতে সেই সুবিধাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নগদ অর্থের অভাবে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন।

পানির অভাবে জমি ফেটে যাওয়ায় আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে পড়বে।

প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, ডিলারের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে কৃষি ও কৃষকদের রক্ষা করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জ্বালানি সংকটে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা-র প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, সেচের পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে পাম্পে গিয়েও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না।

কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল পাচ্ছেন, যা দিয়ে এক বেলার সেচ কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি যাতায়াত ব্যয় বেড়ে চাষাবাদের খরচও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

এক সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৃষকরা বাকিতে ডিজেল নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতিতে সেই সুবিধাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নগদ অর্থের অভাবে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন।

পানির অভাবে জমি ফেটে যাওয়ায় আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে পড়বে।

প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, ডিলারের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে কৃষি ও কৃষকদের রক্ষা করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।