প্রকৃতির বিরূপ আচরণে পাকা ধান লণ্ডভণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের স্বপ্ন

- প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 89
প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত আচরণে রাজবাড়ীর কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। গত কয়েকদিনের দমকা হাওয়া ও অকাল বৃষ্টিতে মাঠের পরিপক্ব ধান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ো বাতাসে জমির ধানগাছগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন একই চিত্র— সোনালি ধানের শীষ আর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নেই, যেন কৃষকের স্বপ্নগুলোও লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে।
কৃষকরা জানান, তারা ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসে ধানগাছগুলো পড়ে গেছে। এতে ধান কাটতে ও মাড়াই করতে অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ লাগবে। পাশাপাশি মাটির সংস্পর্শে আসায় শীষে ফাঙ্গাস ধরার আশঙ্কাও রয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার এক কৃষক বলেন, “ধান কাটতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি ছিল। এরই মধ্যে বাতাসে সব ধান পড়ে গেছে। এখন কাটা ও শুকানোর ঝামেলাও বাড়বে, ফলনও কমে যাবে।”
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতাসে ধান পড়ে গেলে শীষে থাকা আর্দ্রতা বেড়ে যায়, এতে দানার মান নষ্ট হয় এবং ফলন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ধান কেটে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “বাতাসে কিছু এলাকায় ধান মাটিতে পড়ে গেছে— আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বা পুনর্বাসন কর্মসূচি বিবেচনা করা হবে।”
অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি হলে যদি ন্যায্যমূল্য না পান, তাহলে লোকসান সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ আবারও মনে করিয়ে দিল— কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফসল শেষ মুহূর্তে কতটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়। সময়মতো সরকারি সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ না পেলে এই ক্ষতি তাদের জীবিকায় বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
























