লাখো মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে জশনে জুলুস শুরু
- প্রকাশের সময় : ১২:০১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 10
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস শুরু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসটি শুরু হয়।
জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ।
জুলুসটি মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ ও দেশ-জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
জশনে জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নগরে আসতে শুরু করেন। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে তাঁরা মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় জড়ো হন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।
আয়োজকদের দাবি, এবারের জুলুসে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শান্তি, মানবতা, অহিংসা ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় সাজানো হয়েছে। ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে নানা আকৃতির তোরণ।
জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগারও স্থাপন করা হয়েছে।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাইব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ধরায় আগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল বা জশনে জুলুস উদযাপন একটি সুন্নত ও অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। প্রতিবছর চট্টগ্রামের জশনে জুলুসে পবিত্র ও তরিকতভিত্তিক পরিবেশে লাখো মানুষ অংশ নেন বলেও তিনি দাবি করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজন হয়ে আসছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জশনে জুলুসের মতো বড় সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের বড় দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও সততার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।



















