২০টি বসতঘর ভাংচুর
পাংশায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪
- প্রকাশের সময় : ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
- / 103
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। এসময় ওই এলাকার অন্ততঃ ২০টি বসতঘর ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ির গেটও ভাংচুর করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার কসবামাজাইল ইউনিয়নের লক্ষীপুর, সুবর্ণখোলা, ভাতশালা গ্রামে এ সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন কসবামাজাইল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার তামজিদ হোসেন, স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামির হোসেন, ভাতশালা গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন ও আশিকুর রহমান তন্ময়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় সামাজিক দ্ব›দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। এরই জের ধরে ইউপি মেম্বার তামজিদ হোসেনের সাথে বাজারের ব্যবসায়ী মুল্লুক মিয়ার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম মতিউর রহমানের ভাতিজা ও কসবামাজাইল ইউপি চেয়ারম্যান সুফল মাহমুদ জানান, এখানে সামাজিক রীতি রয়েছে। মুল্লুক নামে এক ব্যক্তি তামজিদ মেম্বারের সমাজ থেকে বের হয়ে গেছে। তার সাথে মুল্লুক থাকবে না। একারণে মুল্লুককে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামজিদ মেম্বারের লোকজন মুল্লুকের দোকান ভাংচুর করে। পরে মুল্লুকের পক্ষের লোকজন তামজিদ মেম্বারদের উপর আক্রমণ করে। এই সুযোগে একটি পক্ষ এই দ্ব›দ্বকে আরও বড় করে ফেলে। প্রতিপক্ষের লোকেরা তাদের বাড়ির গেটেও হামলা চালায়। এবিষয়ে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
এবিষয়ে কসবামাজাইল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার তামজিদ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা এক দল করি। ওরা চেয়ারম্যানের (সুফল মাহমুদ) সাথে অন্য দল করে। এই নিয়ে ঝামেলা। আমরা ধৈর্য্যরে সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওরাই আমার উপর আগে হামলা করেছে। আমি আহত হয়েছি। মতিউর রহমানের বাড়ির গেটে বহিরাগতরা হামলা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, চার পাঁচ দিন আগে কসবামাজাইল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির বাড়ি কসবামাজাইলে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক দ্ব›দ্ব আরও বেড়ে গেছে। এরই জের ধরে এ সংঘর্ষ ও কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম মতিউর রহমানের বাড়ির গেটে হামলার চেষ্টার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কোনো পক্ষই এ বিষয়ে অভিযোগগ দেয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


























