Dhaka ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, একজনের ৬ মামলা

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

নওগাঁর রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চা বাগান কলোনির মো. আফসার আলীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুল ও বেলাল (৩৮) এবং নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. শহিদুল মণ্ডলের ছেলে মো. নাহিদ হোসেন (২২)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় নবীর খানের শেডের সামনে নির্জন সড়কে একদল ছিনতাইকারী এক হাঁস ব্যবসায়ী, এক ভ্যানচালক এবং দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজনের পথরোধ করে। ধারালো হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা ও ছয়-সাতটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীদের হামলায় হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ, সোহেল ও ফয়সালসহ কয়েকজন আহত হন। কয়েকজনকে পরনের কাপড় দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।

ঘটনার পর রানীনগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও স্পেশাল ফোর্স ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা, রানীনগর ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর তথ্য-প্রমাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

পরে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুল ইসলাম ও নাহিদ হোসেন গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ও ভোররাতে চারজন মিলে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়কে দুই দফা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা নওগাঁ-নাটোর সড়কের বিভিন্ন স্থানেও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নাহিদ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি মোবাইল ফোন ও একটি হাসুয়া জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি ১৭ মাস কারাগারে ছিলেন এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়ার পর আবার ছিনতাইয়ে জড়ান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ-রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা দমনে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, একজনের ৬ মামলা

প্রকাশের সময় : ০৭:৩২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চা বাগান কলোনির মো. আফসার আলীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুল ও বেলাল (৩৮) এবং নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. শহিদুল মণ্ডলের ছেলে মো. নাহিদ হোসেন (২২)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় নবীর খানের শেডের সামনে নির্জন সড়কে একদল ছিনতাইকারী এক হাঁস ব্যবসায়ী, এক ভ্যানচালক এবং দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজনের পথরোধ করে। ধারালো হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা ও ছয়-সাতটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীদের হামলায় হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ, সোহেল ও ফয়সালসহ কয়েকজন আহত হন। কয়েকজনকে পরনের কাপড় দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।

ঘটনার পর রানীনগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও স্পেশাল ফোর্স ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা, রানীনগর ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর তথ্য-প্রমাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

পরে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুল ইসলাম ও নাহিদ হোসেন গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ও ভোররাতে চারজন মিলে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়কে দুই দফা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা নওগাঁ-নাটোর সড়কের বিভিন্ন স্থানেও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নাহিদ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি মোবাইল ফোন ও একটি হাসুয়া জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি ১৭ মাস কারাগারে ছিলেন এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়ার পর আবার ছিনতাইয়ে জড়ান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ-রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা দমনে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও জানান তিনি।