Dhaka ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

টাঙ্গুয়ার হাওরের পানিতে বিপজ্জনক ভারী ধাতু, হুমকির মুখে পরিবেশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
  • / 129

দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক রত্ন, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত বিপর্যয়ের নতুন চিত্র তুলে ধরেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, এই হাওরের পানিতে রয়েছে বিপজ্জনক মাত্রায় ছয় ধরনের ভারী ধাতু, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন, কৃষিকাজ ও সীমান্তবর্তী শিল্পবর্জ্য এই দূষণের মূল উৎস।

মেঘালয়ের পাদদেশে সবুজ পাহাড় ও নীল জলের অপূর্ব মেলবন্ধনে গঠিত টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিদিনই সেখানে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে প্রকৃতির সেই মোহময় সৌন্দর্যের আড়ালে জমছে বিষ। চলতি বছরের এপ্রিলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএসআইআর ও বুয়েট-এর একদল গবেষক হাওরের ১২টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা পানির নমুনা বিশ্লেষণ করে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেন।

পরীক্ষায় দেখা যায়, পানিতে নিকেল, ক্রোমিয়াম, সিসা, জিংক, তামা ও ম্যাঙ্গানিজ-এর পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সবচেয়ে বেশি দূষণ ধরা পড়ে বারেক টিলা নামক স্থানে। সেখানে প্রতি লিটার পানিতে ক্রোমিয়াম ০.৩৬৪ মিলিগ্রাম ও নিকেল ০.৩৭৩ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে—যা যথাক্রমে অনুমোদিত মাত্রার সাত থেকে আট গুণ বেশি।

গবেষণা দলের সদস্য ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফাতাহা নূর রুবেল জানান, হাউজবোট থেকে সরাসরি বর্জ্য ফেলা, কীটনাশকযুক্ত কৃষিজল, এবং সীমান্তের ওপার থেকে আসা শিল্পবর্জ্য এই দূষণের মূল কারণ। তাঁর মতে, “টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন যেমন সম্ভাবনা, তেমনি যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকে, তাহলে তা হবে চরম হুমকি।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও শঙ্কিত। তারা জানান, পর্যটনের মৌসুমে প্রতিদিন শত শত নৌকা হাওরে চলাচল করে এবং পর্যটকেরা পানি ও তীরে ফেলেন প্রচুর প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য। এগুলোর প্রভাব শুধু পানি নয়, আশপাশের কৃষিজমিতেও পড়ছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, ভারী ধাতু দূষণের প্রভাব শুধু মাছ বা জলজপ্রাণীতে নয়, মানুষের শরীরেও পড়ে। তিনি বলেন, “এমন পানি দিয়ে রান্না করা হলে শরীরে বিষ জমা হয়, যা ক্যানসারসহ নানা রোগের কারণ হতে পারে।”

এই বিপর্যয় রোধে সরকার ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান। তাঁর ভাষায়, “টাঙ্গুয়ার হাওরসহ দেশের অন্যান্য হাওর রক্ষায় একটি জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নাধীন রয়েছে, যেখানে স্থানীয় মতামত ও পরিবেশগত ঝুঁকিগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।”

সূত্র: বণিক বার্তা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টাঙ্গুয়ার হাওরের পানিতে বিপজ্জনক ভারী ধাতু, হুমকির মুখে পরিবেশ

প্রকাশের সময় : ০২:০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক রত্ন, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত বিপর্যয়ের নতুন চিত্র তুলে ধরেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, এই হাওরের পানিতে রয়েছে বিপজ্জনক মাত্রায় ছয় ধরনের ভারী ধাতু, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন, কৃষিকাজ ও সীমান্তবর্তী শিল্পবর্জ্য এই দূষণের মূল উৎস।

মেঘালয়ের পাদদেশে সবুজ পাহাড় ও নীল জলের অপূর্ব মেলবন্ধনে গঠিত টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিদিনই সেখানে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে প্রকৃতির সেই মোহময় সৌন্দর্যের আড়ালে জমছে বিষ। চলতি বছরের এপ্রিলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএসআইআর ও বুয়েট-এর একদল গবেষক হাওরের ১২টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা পানির নমুনা বিশ্লেষণ করে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেন।

পরীক্ষায় দেখা যায়, পানিতে নিকেল, ক্রোমিয়াম, সিসা, জিংক, তামা ও ম্যাঙ্গানিজ-এর পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সবচেয়ে বেশি দূষণ ধরা পড়ে বারেক টিলা নামক স্থানে। সেখানে প্রতি লিটার পানিতে ক্রোমিয়াম ০.৩৬৪ মিলিগ্রাম ও নিকেল ০.৩৭৩ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে—যা যথাক্রমে অনুমোদিত মাত্রার সাত থেকে আট গুণ বেশি।

গবেষণা দলের সদস্য ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফাতাহা নূর রুবেল জানান, হাউজবোট থেকে সরাসরি বর্জ্য ফেলা, কীটনাশকযুক্ত কৃষিজল, এবং সীমান্তের ওপার থেকে আসা শিল্পবর্জ্য এই দূষণের মূল কারণ। তাঁর মতে, “টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন যেমন সম্ভাবনা, তেমনি যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকে, তাহলে তা হবে চরম হুমকি।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও শঙ্কিত। তারা জানান, পর্যটনের মৌসুমে প্রতিদিন শত শত নৌকা হাওরে চলাচল করে এবং পর্যটকেরা পানি ও তীরে ফেলেন প্রচুর প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য। এগুলোর প্রভাব শুধু পানি নয়, আশপাশের কৃষিজমিতেও পড়ছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, ভারী ধাতু দূষণের প্রভাব শুধু মাছ বা জলজপ্রাণীতে নয়, মানুষের শরীরেও পড়ে। তিনি বলেন, “এমন পানি দিয়ে রান্না করা হলে শরীরে বিষ জমা হয়, যা ক্যানসারসহ নানা রোগের কারণ হতে পারে।”

এই বিপর্যয় রোধে সরকার ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান। তাঁর ভাষায়, “টাঙ্গুয়ার হাওরসহ দেশের অন্যান্য হাওর রক্ষায় একটি জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নাধীন রয়েছে, যেখানে স্থানীয় মতামত ও পরিবেশগত ঝুঁকিগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।”

সূত্র: বণিক বার্তা।