Dhaka ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ব্রাজিল–স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা, বিলম্ব হতে পারে খেলা নওগাঁয় মানব পাচার প্রতিরোধে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ৩৫ শত কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ ও সার বিতরণ পাংশায় সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় মামলা, আসামি সাড়ে ৩০০ চিকিৎসা কষ্টে থাকা কাঙালিনী সুফিয়ার দায়িত্ব নিলো এবিজি ফাউন্ডেশন রিজার্ভ বেড়ে ফের ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল সংসদের অধিবেশন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য নিহত, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন ঢাবিতে বহিরাগত প্রবেশ ও যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৭.৮ শতাংশ বেড়েছে

দুই হাত নেই ॥ পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৪.৬৩ পাওয়া হাবিবের পাশে কৃষকলীগ নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী হক

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০
  • / 1169

 

জনতার আদালত অনলাইন ॥ জন্ম থেকেই হাবিবুর রহমানের দুটি হাত নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই বেড়ে ওঠা তার। তবুও মনের শক্তির জোড়ে চালিয়ে গেছে পড়াশোনা। একদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অন্যদিকে দরিদ্রতা। বাবা চোখে কম দেখায় পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে কৃষিকাজেও সহযোগিতা করেছে সে। এসব বাধা পেরিয়ে এবারের দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেছে জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে। হাবিবুর রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হেমায়েতখালী গ্রামের আব্দুস সামাদ মিয়া ও হেলেনা খাতুনের ছেলে। পাংশা উপজেলার পুঁইজোর ফাযিল মাদ্রসার ছাত্র সে। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন দৈনিক জনতার আদালতের সম্পাদক কৃষকলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক।

হাবিবুর রহমানের বাবা সামাদ মিয়া একজন হতদরিদ্র কৃষক। তার দৃষ্টিশক্তি কম। তা সত্ত্বেও তার তিন মেয়ে এবং এক ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় দুই মেয়ে পাংশা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

হাবিবের চাচা আব্দুল খালেক জানান, ছোটবেলায় সবাই যখন পড়াশোনা করতো তখন হাবিবও পড়তে চাইতো। কিন্তু লিখবে কীভাবে? পা দিয়ে লেখার চর্চা করানো হয় হাবিবুরকে। এক সময় সফলতাও আসে। সাধারণ মানুষ যেমন হাত দিয়ে লেখে হাবিবুরও স্বাভাবিকভাবেই লিখতে পারে পা দিয়ে। তার লেখাও সুন্দর। অদম্য মনোবল আর ইচ্ছা শক্তির জোড়ে মা-বাবা, বোন আর চাচাদের অনুপ্রেরণায় হাবিবুর চালিয়ে যায় পড়াশোনা। প্রাথমিক সমাপনী ও জেডিসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করে হাবিবুর। হাবিবুর অন্যদের মত স্বাভাবিক কাজকর্মও করতে পারে পা দিয়ে। তবে খাওয়া দাওয়া গোসল তার মাকেই করিয়ে দিতে হয়। বাড়ি থেকে মাদ্রাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার পথ। প্রতিদিন হেঁটে যাতায়াত করতো হাবিবুর। তার বড় ভাই (হাবিবের বাবা) চোখে কম দেখেন। পরের জমি চাষ করে কোনোমতে সংসার চালান। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার করান। তাকেও কৃষিকাজে সহযোগিতা করে হাবিব।

হাবিবের মা হেলেনা খাতুন জানান, জন্ম থেকে ছেলেটার দুই হাত নেই। এটা যে কোনো বাবা-মায়ের জন্যই কষ্টের। আমরা ছেলেটাকে খুব ভালোবাসি। ওর পড়াশোনার আগ্রহ দেখে উৎসাহ দিয়ে গেছি সব সময়। যখন সময় পেয়েছে তখনই পড়াশোনায় ব্যস্ত থেকেছে। পা দিয়ে লিখে যতটুকু ফলাফল অর্জন করেছে তাতেই আমরা খুশী। কিন্তু আমরা গরীব। আমাদের ইচ্ছা ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করবো। কেউ একটু আর্থিক সহযোগিতা দিলে আমার ছেলে হাবিব আর আমাদের ইচ্ছা পূরণ হতো।

হাবিবুর রহমান জানায়, আরও একটু ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। জিপিএ ৫ পেলে ভালো লাগতো। ছোটবেলা থেকে বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাদের উৎসাহেই আমি লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। আমি আরও পড়াশোনা করতে চাই।

পুঁইজোর ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হেদায়েতুর রহমান বলেন, আমরা সব সময় হাবিবকে সহযোগিতা করেছি। আর্থিক কোনো সংকট থাকলেও সেটা দূর করেছি। ভালো ও মেধাবী ছাত্র হাবিব। সে চাইলে এ মাদ্রাসাতেই আলিমে ভর্তি হতে পারে। এজন্য তাকে যে কোনো সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে মেধাবী হাবিবুর রহমানের সাফল্যের কথা জেনে তার দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন দৈনিক জনতার আদালত পত্রিকার সম্পাদক,  কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সমাজসেবক  নুরে আলম সিদ্দিকী হক। আলিম পর্যন্ত হাবিবের পড়াশোর নব দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নুরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন, মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থী‌দের পা‌শে দাঁড়াতে তি‌নি সব সময় থাকার চেষ্টা ক‌রেন। হা‌বিবের দুই হাত না থাকার পরেও পা দি‌য়ে লি‌খে ভাল রেজাল্ট ক‌রে‌ছে। অাগামী দুই বছর অা‌লিম পড়াশুনার জন্য ওর যেন কোন সমস্যা না হয়, সে জন্য যাবতীয় লেখা পড়ার খরচ তি‌নি দে‌বেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দুই হাত নেই ॥ পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৪.৬৩ পাওয়া হাবিবের পাশে কৃষকলীগ নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী হক

প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

 

জনতার আদালত অনলাইন ॥ জন্ম থেকেই হাবিবুর রহমানের দুটি হাত নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই বেড়ে ওঠা তার। তবুও মনের শক্তির জোড়ে চালিয়ে গেছে পড়াশোনা। একদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অন্যদিকে দরিদ্রতা। বাবা চোখে কম দেখায় পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে কৃষিকাজেও সহযোগিতা করেছে সে। এসব বাধা পেরিয়ে এবারের দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেছে জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে। হাবিবুর রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হেমায়েতখালী গ্রামের আব্দুস সামাদ মিয়া ও হেলেনা খাতুনের ছেলে। পাংশা উপজেলার পুঁইজোর ফাযিল মাদ্রসার ছাত্র সে। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন দৈনিক জনতার আদালতের সম্পাদক কৃষকলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক।

হাবিবুর রহমানের বাবা সামাদ মিয়া একজন হতদরিদ্র কৃষক। তার দৃষ্টিশক্তি কম। তা সত্ত্বেও তার তিন মেয়ে এবং এক ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় দুই মেয়ে পাংশা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

হাবিবের চাচা আব্দুল খালেক জানান, ছোটবেলায় সবাই যখন পড়াশোনা করতো তখন হাবিবও পড়তে চাইতো। কিন্তু লিখবে কীভাবে? পা দিয়ে লেখার চর্চা করানো হয় হাবিবুরকে। এক সময় সফলতাও আসে। সাধারণ মানুষ যেমন হাত দিয়ে লেখে হাবিবুরও স্বাভাবিকভাবেই লিখতে পারে পা দিয়ে। তার লেখাও সুন্দর। অদম্য মনোবল আর ইচ্ছা শক্তির জোড়ে মা-বাবা, বোন আর চাচাদের অনুপ্রেরণায় হাবিবুর চালিয়ে যায় পড়াশোনা। প্রাথমিক সমাপনী ও জেডিসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করে হাবিবুর। হাবিবুর অন্যদের মত স্বাভাবিক কাজকর্মও করতে পারে পা দিয়ে। তবে খাওয়া দাওয়া গোসল তার মাকেই করিয়ে দিতে হয়। বাড়ি থেকে মাদ্রাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার পথ। প্রতিদিন হেঁটে যাতায়াত করতো হাবিবুর। তার বড় ভাই (হাবিবের বাবা) চোখে কম দেখেন। পরের জমি চাষ করে কোনোমতে সংসার চালান। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার করান। তাকেও কৃষিকাজে সহযোগিতা করে হাবিব।

হাবিবের মা হেলেনা খাতুন জানান, জন্ম থেকে ছেলেটার দুই হাত নেই। এটা যে কোনো বাবা-মায়ের জন্যই কষ্টের। আমরা ছেলেটাকে খুব ভালোবাসি। ওর পড়াশোনার আগ্রহ দেখে উৎসাহ দিয়ে গেছি সব সময়। যখন সময় পেয়েছে তখনই পড়াশোনায় ব্যস্ত থেকেছে। পা দিয়ে লিখে যতটুকু ফলাফল অর্জন করেছে তাতেই আমরা খুশী। কিন্তু আমরা গরীব। আমাদের ইচ্ছা ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করবো। কেউ একটু আর্থিক সহযোগিতা দিলে আমার ছেলে হাবিব আর আমাদের ইচ্ছা পূরণ হতো।

হাবিবুর রহমান জানায়, আরও একটু ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। জিপিএ ৫ পেলে ভালো লাগতো। ছোটবেলা থেকে বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাদের উৎসাহেই আমি লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। আমি আরও পড়াশোনা করতে চাই।

পুঁইজোর ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হেদায়েতুর রহমান বলেন, আমরা সব সময় হাবিবকে সহযোগিতা করেছি। আর্থিক কোনো সংকট থাকলেও সেটা দূর করেছি। ভালো ও মেধাবী ছাত্র হাবিব। সে চাইলে এ মাদ্রাসাতেই আলিমে ভর্তি হতে পারে। এজন্য তাকে যে কোনো সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে মেধাবী হাবিবুর রহমানের সাফল্যের কথা জেনে তার দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন দৈনিক জনতার আদালত পত্রিকার সম্পাদক,  কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সমাজসেবক  নুরে আলম সিদ্দিকী হক। আলিম পর্যন্ত হাবিবের পড়াশোর নব দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নুরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন, মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থী‌দের পা‌শে দাঁড়াতে তি‌নি সব সময় থাকার চেষ্টা ক‌রেন। হা‌বিবের দুই হাত না থাকার পরেও পা দি‌য়ে লি‌খে ভাল রেজাল্ট ক‌রে‌ছে। অাগামী দুই বছর অা‌লিম পড়াশুনার জন্য ওর যেন কোন সমস্যা না হয়, সে জন্য যাবতীয় লেখা পড়ার খরচ তি‌নি দে‌বেন।