কালুখালীতে গৃহবধূ মীমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
- প্রকাশের সময় : ১০:০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
রাজবাড়ীর কালুখালীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মোছাঃ মীম আক্তারকে (১৮) নির্মম নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার পর ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার কালুখালী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে নিহতের স্বজনসহ শত শত স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। এতে ব্যানার ও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ আলামিন মণ্ডলের মেয়ে মীম আক্তারের সাথে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের মোঃ পান্নু কাজীর (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ দুই লাখ টাকার উপহার সামগ্রী দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মীমের ওপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতনের একপর্যায়ে মীম আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা (সি.আর মামলা নং-২২২/২৫) দায়ের করেন।
পরবর্তীতে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে মীমকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। গত ১৬ আগস্ট মীমকে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি প্রাণভয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা স্থানীয় একটি সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়ে। এর পরদিন ১৭ আগস্ট দুপুরে আসামিরা যোগসাজশ করে মীমকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর লাশ আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে অশ্রুসজল কণ্ঠে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, যৌতুকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েও মীমকে বাঁচানো গেল না। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরবর্তীতে মীমের বাবা আদালতে হত্যা মামলা (সি.আর মামলা নং-৩৪০/২৪) দায়ের করেন।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী পান্নু কাজীসহ জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।






















