Dhaka ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 13

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করছে দেশবাসী।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেন। তার লেখায় অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা, সাম্য ও জাগরণের বার্তা উঠে এসেছে।

‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে খ্যাত নজরুলের সৃষ্টিকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক। কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার সৃষ্ট অসংখ্য গান ও রাগ-রাগিণী আজও বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ।

অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার সৃষ্টি বাঙালিকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তার সাহিত্য ও সংগীত জাতীয় জীবনে সাম্য ও সম্প্রীতির চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে ঢাকায় আনা হয়। তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনায় অনন্য। তার বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশের সময় : ১১:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করছে দেশবাসী।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেন। তার লেখায় অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা, সাম্য ও জাগরণের বার্তা উঠে এসেছে।

‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে খ্যাত নজরুলের সৃষ্টিকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক। কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার সৃষ্ট অসংখ্য গান ও রাগ-রাগিণী আজও বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ।

অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার সৃষ্টি বাঙালিকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তার সাহিত্য ও সংগীত জাতীয় জীবনে সাম্য ও সম্প্রীতির চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে ঢাকায় আনা হয়। তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনায় অনন্য। তার বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।