ভূমিকম্পের তিন মিনিট পরই নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস, নিহত ১৫৭
- প্রকাশের সময় : ১০:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র তিন মিনিট পরই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় এ দুর্যোগে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন, যাদের বেশির ভাগই বিদেশি পর্যটক।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১, ধাদিংয়ে ১৮, চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, তানাহুঁতে ৭ এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৬১ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ।
ট্যুর অপারেটরদের বরাত দিয়ে পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের বেশির ভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
দুর্যোগে নদীর তীব্র স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। কোথাও আবার কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে বসতবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার স্বজনদের হারিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করেছে।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় তিব্বতের গিরংয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল সীমান্তের একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও বিবিসি
























