ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- প্রকাশের সময় : ১১:১৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 15
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এ নির্বাচন আয়োজনের নতুন পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী সময়। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে কমিশন ভোটের সময় নির্ধারণ করছে। বর্তমানে নভেম্বরকে সামনে রেখে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে কমিশনে ফিরে এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কোন কোন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী, সে বিষয়ে তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় ইসি। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তালিকা কমিশনের হাতে পৌঁছেছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে তপশিল ও ভোটের তারিখ নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সিইসি জানিয়েছেন, আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়সহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকায় এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকবে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন ও বিধিমালা-সংক্রান্ত কাজ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। ভোটের ২৫ দিন আগে প্রতিটি স্তরের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে এ তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।




















