Dhaka ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভারতকে সীমান্তহত্যা ও পুশইন বন্ধ করতে হবে: রাশেদ খাঁন কাজের পরিধি ও গতি বাড়ায় পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু ইসির তাড়াহুড়া নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর কালুখালীর সূর্য দিয়া গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নিকজান বেগমের প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চয়তায় কাজ করছে সরকার মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে আটক ৬ পর্তুগালে জনসমক্ষে বোরকা ও মুখঢাকা পোশাকে নিষেধাজ্ঞা

কালুখালীর সূর্য দিয়া গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নিকজান বেগমের

আশিক হাসান, কালুখালী
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 58

 

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য দিয়া গ্রামের নিকজান বেগমের নেই থাকার মতো একটি বসতঘর। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে ছেঁড়া পলিথিন ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ছাউনির নিচেই দিন-রাত কাটছে তার।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে সূর্য দিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের এক কোণে বাঁশ ও ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে কোনোমতে একটি ছাউনি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন নিকজান বেগম। বর্ষায় ছাউনির ভেতর পানি পড়ে, শীতকালে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় নানা দুর্ভোগের মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

নিকজান বেগম বলেন, “বাবা বেঁচে নাই, স্বামীও নাই। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ঘর বানানোর মতো টাকা আমার নেই। রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকতে হয়। সরকার যদি একটা ঘর দিত, তাহলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা সাথী পারভীন জানান, নিকজান বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার কোনো জমি-জমা নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ মাঝেমধ্যে তাকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন।

এলাকাবাসী জানান, নিকজান বেগমের মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরও নেই। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দুর্যোগের সময় তাকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তার জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে অন্তত নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পাবেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, অসহায় নিকজান বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীর সূর্য দিয়া গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নিকজান বেগমের

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য দিয়া গ্রামের নিকজান বেগমের নেই থাকার মতো একটি বসতঘর। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে ছেঁড়া পলিথিন ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ছাউনির নিচেই দিন-রাত কাটছে তার।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে সূর্য দিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের এক কোণে বাঁশ ও ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে কোনোমতে একটি ছাউনি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন নিকজান বেগম। বর্ষায় ছাউনির ভেতর পানি পড়ে, শীতকালে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় নানা দুর্ভোগের মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

নিকজান বেগম বলেন, “বাবা বেঁচে নাই, স্বামীও নাই। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ঘর বানানোর মতো টাকা আমার নেই। রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকতে হয়। সরকার যদি একটা ঘর দিত, তাহলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা সাথী পারভীন জানান, নিকজান বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার কোনো জমি-জমা নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ মাঝেমধ্যে তাকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন।

এলাকাবাসী জানান, নিকজান বেগমের মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরও নেই। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দুর্যোগের সময় তাকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তার জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে অন্তত নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পাবেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, অসহায় নিকজান বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।